মা ইলিশ রক্ষায় মৎস্য নেতা ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা তদবিরে ব্যস্ত

মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ গত ১৪ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে ২২ দিনের জন্য সরকার ঘোষিত মা ইলিশ রক্ষার কার্যক্রম। এ ২২ দিন চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে লক্ষীপুর জেলার চরআলেকজান্ডার পর্যন্ত ১শ কিলোমিটার এলাকায় নদীতে সকল প্রকার জাল ফেলা নিষিদ্ধ। প্রতিনিয়ত কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা নদীতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। আর এই সুযোগে হাতে গোনা কয়েকজন মৎস্যজীবী প্রতিনিধি ও শ্রমিক সংগঠনের নেতা নামধারী ব্যক্তি আটক জেলে নৌকা আর জাল ছাড়িয়ে নিতে তদবির বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। এরা পুলিশকে ম্যানেজ করতে না পারলে ওই পুলিশের বিরুদ্ধে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে মিথ্যা বানোয়াট কথা বলে ক্ষেপিয়ে তুলছে।
তেমনি একটি ঘটনা ঘটেছে গত ১৮ অক্টোবর। চাঁদপুর নৌ থানার উপ-পরিদর্শক ফয়সাল রাব্বি ইশান, মৎস্য কর্মকর্তা সহ পুলিশ সদস্যদের নিয়ে নদীতে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে নামেন। এ সময় দুপুরে সদর উপজেলার আনন্দ বাজার এলাকায় আওয়ামী মৎস্যজীবীলীগের ম নেতা আব্দুল মালেক দেওয়ানের নিকটাত্মীয়ের একটি জেলে নৌকা জাল সহ আটক করে। বিষয়টি জানতে পেরে আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি ও দালাল আব্দুল মালেক দেওয়ান ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর সরদার সহ বেশ কয়েকজন দালাল প্রকৃতির দল উপ-পরিদর্শক ফয়সাল রাব্বি ইশানকে মোবাইলের মাধ্যমে নৌকা ছেড়ে দেওয়ার জন্য ১ লাখ টাকা রফাদফা করার প্রস্তাব দেয় বলে পুলিশের একটি সূত্র থেকে জানা যায়। ইশান বিষয়টি তাদের নিষেধ করে দেয়। আটককৃত নৌকাটি মেঘনা নদীতে এনে ফুটো করে নদীতে তা ডুবিয়ে দেওয়া হয়।
পরে মালেক দেওয়ান ও জাহাঙ্গীর সরদার তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা নৌ থানার কর্মকর্তাকে ফয়সাল রাব্বি ইশানের বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ করেন এক লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে নৌকা ছেড়ে দেওয়ার জন্য। ওই টাকা না দেওয়ায় নৌকাটি নদীতে ফুটো করে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে ফয়সাল রাব্বি ইশানকে তাৎক্ষনিক নৌ থানা থেকে বদলী করে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর নৌ থানায় পাঠানো হয়েছে বলে সূত্র মতে জানা যায়। উল্লেখ্য গত কয়েক বছর পূর্বে আব্দুল মালেক দেওয়ান মা ইলিশের মৌসুমে আটক জেলেদের ছাড়িয়ে নিতে নৌ থানায় এসে তদবির করলে পুলিশ তাকে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আটকে রাখে। পরে মালেক দেওয়ানকে মুচলেকার মাধ্যমে চেড়ে দেওয়া হয়।
শুধু তাই নয় মালেক দেওয়ান জেলেদের সাথে জেলে চাল নিয়েও বহুবার প্রতারণা করেছে বলে অনেক ভোক্তভোগী জেলে জানিয়েছে। এ বছর আবারও মালেক দেওয়ান নৌ থানায় এসে জেলে ছাড়ানোর দালালীতে মেতে উঠেছে। তাছাড়া জাহাঙ্গীর সরদার আওয়ামী মৎস্যজীবীলীগের নাম করে বিভিন্ন পণ্যবাহী নৌযান থেকে চাঁদা আদায় করছে বলেও জানা যায়। এদিকে ওইদিন সন্ধ্যায় মালেক দেওয়ান, জাহাঙ্গীর সরদার সহ অন্যান্যরা চাঁদপুর নৌ থানার অফিসার ইনচার্জকে বলেন, আমরা ইশানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছি। আমাদেরকে ভুল বুঝানো হয়েছে বলে জানান।