মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা ঘিরে ডিএমপি’র নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাকে ঘিরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২০ আগামী ১ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
মঙ্গলবার ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে ২৫ তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জানানো হয়, নিরাপত্তার স্বার্থে মেলা প্রাঙ্গণে আগত দর্শণার্থীদের পৃথক প্রবেশ ও বাহির গেট থাকবে। প্রবেশের পূর্বে মেটাল ডিটেক্টর ও আর্চওয়ে দিয়ে দর্শণার্থীদের প্রবেশ করানো হবে। প্রবেশ গেটসমূহে দিক নির্দেশনামূলক ডিজিটাল সাইনবোর্ড থাকবে। মেলা প্রাঙ্গন ও তার আশপাশে থাকবে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। সিসি ক্যামেরা দিয়ে সমগ্র মেলা এলাকা ও তার আশপাশ ২৪ ঘন্টা পর্যবেক্ষণ করা হবে। মেলা চলাকালে মাসব্যাপী পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা ২৪ ঘন্টা দায়িত্ব পালন করবে। মেলা প্রাঙ্গণে পুলিশের ১০টি ওয়াচ টাওয়ার থাকবে যার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। মেলা প্রাঙ্গণ বোম্ব ডিসপোজাল টিম ও ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে।
এছাড়া, মেলার অভ্যন্তরে সুবিধাজনক স্থানে ৪টি হেল্প ডেস্ক থাকবে। মেলা প্রাঙ্গণে মোটরসাইকেল চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মেলায় মাইকিং করে যানবাহন পার্কিং সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রচার করা হবে। মেলায় থাকবে প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা। এর অভ্যন্তরে দৃশ্যমান স্থানে ২টি অভিযোগ বাক্স স্থাপন এবং সার্ভিস ডেলিভারী অফিসার থাকবে। অগ্নিকান্ড প্রতিরোধে প্রতিটি স্টলে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রাখতে হবে। মেলা প্রাঙ্গনে ফায়ার সার্ভিসের একটি সাব-স্টেশন থাকবে।
মেলার অভ্যন্তরে উচ্চ শব্দের সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের পরিবর্তে স্বল্প শব্দের সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে। পুলিশ কন্ট্রোলরুমে লোকেশন সম্বলিত সাইড ম্যাপ থাকবে।
বাণিজ্য মেলায় ফুড কোর্টে মূল্য তালিকা সার্বক্ষণিক প্রদর্শিত করতে হবে। যদি ফুড কোর্টে মূল্য তালিকা প্রদর্শিত না করা হয়, তাহলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে সেই স্টলকে জরিমানা করা হবে।
মেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) মীর রেজাউল আলম বলেন, প্রতি সাতদিন পরপর মেলার আইন-শৃংখলা কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে মেলা প্রাঙ্গণে কোন হকার ও ভিক্ষুক প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।
সমন্বয় সভায় ডিএমপি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর প্রতিনিধি, গোয়েন্দা সংস্থা ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি ও সরকারি সেবাদানকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। (সূত্র:বাসস)