মালয়েশিয়ায় তথ্য জালিয়াতির অভিযোগে ২ বাংলাদেশী গ্রেফতার

আশরাফুল মামুন, মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: মালয়েশিয়ায় তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে করোনা ভাইরাস (covid-19) এর ভূয়া টেস্ট রিপোর্ট তৈরির সময় হাতে নাতে দুই বাংলাদেশী প্রবাসী কে গ্রেফতার করেছে দেশটির গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। শনিবার (০৬ জুন) বিকাল সাড়ে ৫ টায় রাজধানী কুয়ালালামপুরের জালান আলোর নামক এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

দেশটির অনলাইন সংবাদ মাধ্যম হারিয়ান মেট্রোর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক ভাবে এই দুই বাংলাদেশীর নাম পরিচয় প্রকাশ করেনি। রাজধানী কুয়ালালামপুর পুলিশ প্রধান দাতুক মাজলান লাজিম গণমাধ্যম কে জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিদেশি অভিবাসীদের কাছে মালায় রিংগিত ৫০ ( টাকা ১ হাজার) বিনিময়ে করোনা ভাইরাসের নেগিটিভ রিপোর্ট বিক্রি করে আসছে এই সিন্ডিকেট গ্রুপ।

অবশেষে আমরা তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি বলেন, ১২ হাজার টাকার দোকান ভাড়া নিয়ে ও স্থানীয় দুইজন নাগরিককে চাকরি দিয়ে কাউন্টারে রেখে প্রতিদিন দুপুর ১২ টা থেকে রাত ৯টা অবধি এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে একটি জাল কোভিড -১৯ স্ক্রিনিং পরীক্ষার রিপোর্ট, একটি ফাঁকা ল্যাবলিঙ্ক মেডিক্যাল ল্যাবরেটরি লেটারহেড এবং মালায় রিংগিত ১,৩৩১(টাকা ২৬৫০০) উদ্ধার করে। এ ছাড়াও পুলিশ দুটি ল্যাপটপ, তিনটি প্রিন্টার, দুটি ল্যামিনেটর মেশিন এবং কোভিড -১৯ স্ক্রিনিং পরীক্ষার ফলাফলের দুটি শীট সহ বেশ কয়েকটি আইটেমও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।

তিনি আরো বলেন,কোভিড -১৯ স্ক্রিনিং পরীক্ষার ফলাফলের রিপোর্ট নকল করার বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে এবং বেআইনীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। গ্রেফতারকৃত দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ১৯৮৮ এর ধারা ২২ (ডি), দণ্ডবিধির ধারা ৪৬৮, দণ্ডবিধির ধারা ৪৭১ এবং ইমিগ্রেশন আইনের ধারা ৬ (১) (সি) এর অধীনে মামলাগুলি তদন্ত করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

উল্লেখ্য যে, পূনরায় কাজে যোগদান করার জন্য দেশটিতে করোনা ভাইরাস (Covid-19) পরিক্ষা সকল বিদেশি শ্রমিকদের জন্য বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এই পরীক্ষার খরচ নিয়োগদাতা সংস্থা বহনের সরকার নির্দেশ দিলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে কোন কোন ক্ষেত্রে শ্রমিকরা নিজ খরচে করতে হচ্ছে। পরীক্ষার করতে প্রায় ৩ থেকে ৪ শত রিংগিত বা বাংলাদেশী টাকা ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়।