মালয়েশিয়ার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে পাম তেলের রপ্তানি শুল্কে ছাড়

আশরাফুল মামুন, মালয়েশিয়া প্রতিনিধি:  বিশ্বজুড়ে কোভিড – ১৯ এর অদৃশ্য ভাইরাসের দৃশ্যমান ছোবলে অর্থনৈতিক মন্দার অতল গহব্বর থেকে পূর্ণ উত্থানে মালয়েশিয়া তাদের ২য় অর্থনৈতিক আয়ের উৎস পামওয়েল শিল্প কে ঢেলে সাজিয়েছে। বিশ্বব্যাপী পাম তেল রপ্তানি তে ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে বিশাল ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সরকার।

অপরিশোধিত ভোজ্য পাম তেলের রপ্তানি শুল্ক হ্রাসের খবরে ইতিমধ্যে তেল আমদানি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটির অপরিশোধিত পাম তেলের বড় বড় ক্রেতা যেমন ভারত ও চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থনৈতিক অঞ্চলের মত দেশগুলি। সোমবার (১৫ জুন) দেশটির সংবাদ মাধ্যম বেরিতা হারিয়ান এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কোভিড ১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলায় গত ৩ মাসের টানা লকডাউনের কারণে বিশ্বের অন্যতম ভোজ্য পাম তেল উৎপাদনকারী দেশ মালয়েশিয়া তাদের স্থানীয় ভাবে তেল উৎপাদন ও রপ্তানি শতাব্দীর মধ্যে সর্বনিম্নে পৌঁছে যায়।

এতে করে দেশটি অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়ে। এই অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন সেক্টরের জন্য ৩৫ বিলিয়ন রিংগিত আর্থিক প্রনোদনাও ঘোষণা করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন দেশে অপরিশোধিত পাম তেল রপ্তানি তে তারা সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক হ্রাস করার ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী পহেলা জুলাই থেকে এই শুল্ক হ্রাসের প্রতিশ্রুতি কার্যকর হবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মালয়েশিয়ার পাম অয়েল বোর্ডের মহাপরিচালক আহমদ পারভেজ গোলাম কাদির বলেছেন, দুর্বল পাম অয়েলের বাজার শীঘ্রই আবার শক্তিতে ফিরে আসবে বলে আমরা আশা করছি, এদিকে মালয়েশিয়ার অন্যতম পাম তেল আমদানিকারক ভারত মার্চ মাসে দেশটি কেবল ১০,৮০৬ টন আমদানি করেছিল, যা আগের বছরের একই সময়ের তলনায় ৯৭ শতাংশ কম। তবে শীঘ্রই এই পরিস্থিতি পরিবর্তিত হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের। উল্লেখ্য যে, ভারত বছরে প্রায় নয় মিলিয়ন টন পাম তেল ক্রয় করে, যা তার মোট খাদ্য আমদানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, গত বছর মালয়েশিয়া থেকে ৪.৪ মিলিয়ন টন আমদানি করেছে।