মালয়েশিয়ানরা হৃদয়ে আঘাত পেলে রায়হান ক্ষমা চাইবেন – রায়হানের আইনজীবী

আশরাফুল মামুন, মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: মালয়েশিয়ানদের হৃদয়কে আঘাত করার কোন উদ্দেশ্যে ছিল না আমরা মোঃ রায়হান কবিরের সাথে সাক্ষাত করেছি এবং তিনি মালয়েশিয়ার এবং সরকারের হৃদয়ে যদি অনিচ্ছাকৃত ভাবে আঘাত দিয়ে থাকেন তাহলে তিনি ক্ষমা চাইবেন।

আজ বুধবার (২৯ জুলাই) রিমান্ডে আটক রায়হান কবিরের সাথে সাক্ষাৎ করার পর তার পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী সুমিতা শৈথিন্নি এবং সি সেলভরাজা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দেশটির জাতীয় অনলাইন সংবাদ মাধ্যম হারিয়ান মেট্রো এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। রায়হানের আইনজীবী সেলভারাজা এবং সুমিতা বলেছিলেন, এখনও পর্যন্ত মোঃ রায়হান বলেছেন যে তিনি মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের (জেআইএম) আটকের পর তিনি ভালো চিকিৎসা পেয়েছেন,

তাঁদের মতে, সাক্ষাৎকার চলাকালীন রায়হান তার পূর্ববর্তী বক্তব্যের সম্পর্কে ক্ষমা চাইতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এসময় রায়হান আরো বলেন, মালয়েশিয়ার জনগন এবং সরকারের হৃদয় আহত করার জন্য তার কিছু বলার ইচ্ছা কখনোই ছিল না। তিনি যা বলেছিলেন তা ছিল তাঁর ব্যক্তিগত মতামত এবং কোভিড -১৯ এর সময় আটককৃত লোকদের সম্পর্কে তিনি যা দেখেছিলেন তার প্রতিক্রিয়া মাত্র। রায়হান আরো বলেছে যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাকে যেন পরিবারের কাছে পাঠানোর ব্যাবস্থা করা হয়।

আইনজীবী সুমিতা আরো বলেন, মোঃ রায়হানকে বুকিত আমান পুলিশ আধিকারিকেরাও জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন এবং তাদের কাছে এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। এদিকে, বুকিত আমান অপরাধ তদন্ত বিভাগের উপপরিচালক (তদন্ত ও আইন), পুলিশ কমিশনার মায়ার ফরিদালাথরশ ওয়াহিদ গতকাল এবং আজ মোঃ রায়হানের বক্তব্য গ্রহণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। এবিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের অগ্রগতির পরে জানানো হবে,আজ যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

মালয়েশিয়ার সরকারের নীতির বিষয়ে আল জাজিরায় সম্প্রচারিত ডকুমেন্টারী তে বিদেশিদের প্রতি বৈষম্য দাবি করে লকড ইন শীর্ষক একটি ডকুমেন্টারে প্রচারিত হয়েছিল। এরপর গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে মোঃ রায়হানকে গত শুক্রবার বিকাল ৫ টায় কুয়ালালামপুরের সেতাপাকের জেআইএম পুত্রজায়া অপারেশনস ইন্টেলিজেন্স ইউনিট থেকে একদল অফিসার আটক করেছিলেন।