মালয়েশিয়া থেকে ঝালকাঠির ফয়জুল হকের ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন

আশরাফুল মামুন, মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া (আইআইইউএম)শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট সোসাইটি’র(পিজিএসএস) এর সাবেক প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশী শিক্ষার্থী ফয়জুল হক অত্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলতার সাথে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রোফেসর ডক্টর আরশাদ ইসলামের অধীনে তিনি এই গবেষনা তত্ত্ব সম্পাদন করেন। তার গবেষনার বিষয় ছিল SHAIKH AZIZUR RAHMAN NESARABADI’S APPROACHES,METHODS AND THOUGHTS IN ENHANCING UNITY IN DIVERSITY IN BANGLADESH ।

জানা যায় ,আইআইইউএম-এর অধ্যয়নরত শতাধিক দেশের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী ছাত্র সংসদ পিজিএসএস এর ২০১৬-১৭ সেশনের জন্য ভিপি ও ২০১৮-২০১৯ সেশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার চারাখালি গ্রামের মাওলানা মুজ্জাম্মিলুল হক ও ফাতেমা বেগমের ৬ষ্ঠ সন্তান ফয়জুল হক।

১৯৮৭ সালের ১লা ফেব্রুয়ারীতে জন্মগ্রহনকারী ফয়জুল হক ২০০১ সালে এসএসসি, ২০০৩ সালে এইচএসসি পাশ করেন ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদরাসা থেকে। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৯ সালে অনার্স (ইতিহাস) ও ২০১০ সালে মাস্টার্স (ইতিহাস) বিভাগে কমপ্লিট করেন।ডক্টর ফয়জুল হক ২০১৪ সালে আইআইইউএম-এ হিস্ট্রি এন্ড সিভিলাইজেশন বিভাগে পিএইচডি গবেষণা শুরু করেন।

ডক্টর ফয়জুল হক আমাদের সংবাদদাতাকে বলেন, সর্বশক্তিমান আল্লাহর রহমতে, গত ৮ই নভেম্বর আমার পিএইচডি থিসিস ভাইভা সম্পন্ন করার পরে, গত ১৩ নভেম্বর থিসিস জমা দেওয়ার সমস্ত অফিসিয়াল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি।

এই দীর্ঘ যাত্রা জুড়ে আমি আমার বন্ধু, আত্মীয়স্বজন, পরিবার, শিক্ষক এবং সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছ থেকে প্রচুর সমর্থন, দুআ এবং অনুপ্রেরণা পেয়ে এসেছি।আজ সাফল্যের এই দিনগুলিতে, আমি তাদের সকলকে অজস্র শ্রদ্ধা, ভালবাসা, কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদের সাথে ভীষনভাবে স্মরণ করছি ; তাদের অনুপ্রেরনা না পেলে হয়ত আজ এই সফলতার দিনে পৌঁছাতে পারতাম না।

গত কয়েকদিনে আমার যে সকল শুভাকাঙ্ক্ষীরা আমাকে হাজার হাজার শুভেচ্ছা জানিয়ে ভালবাসা ও সম্মানে সিক্ত করেছেন, তাদের সবাইকে আমার অন্তরের অন্তরাস্থল থেকে অফুরন্ত ধন্যবাদ জানাই। সবসময় মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করবেন যাতে আমরা সবাই সর্বদা একসাথে থাকতে পারি এবং আমাদের অর্জনগুলিকে ভাল কাজের মাধ্যমে কাজে লাগিয়ে সমাজ এবং বিশ্বের সকল মানুষের উপকারে আসতে পারি।

ঝালকাঠি এনএস কামিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও বিখ্যাত ইসলাম ধর্ম প্রচারক মাওলানা আজিজুর রহমান নেছারাবাদী (কায়েদ সাহেব হুজুরের) দৌহিত্র ডক্টর ফয়জুল হক ২০০৩-০৪ সালে ঝালকাঠি এনএস কামিল মাদ্রাসার ভিপি নির্বাচিত হন।

২০০৭-০৮ সেশনে বিএনসিসি’র (সেনা, নৌ ও বিমান) শাখার এডজুটেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বরিশাল বিভাগীয় ছাত্র সমিতির সভাপতি ও বিএনসিসির ইনচার্জের পদ ও অলংকৃত করেন তিনি।বর্তমানে তিনি কায়েদ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ স্টুডেন্ট ইউনিয়ন মালয়শিয়ার সভাপতি ও বরিশাল বিভাগীয় সমিতি মালয়শিয়া’র সিনিয়র যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ।এছাড়া তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে কাজ করছেন ঝালকাঠি এমএম হক ফাউন্ডেশন, পাওয়ারসেল ছাত্র সংসদ এন্ড ছাত্র ফোরাম।

বর্তমানে তিনি মালয়শিয়াতে এক্সিলেঞ্চ ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ লার্নিং সেন্টার (এসডিএনবিএইচডি) এর অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং ডাইরেক্টর এর দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি আলমদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি মালয়শিয়ার ইন্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির স্টুডেন্ট এ্যাফেয়ার্স এর ডাইরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিখ্যাত ইসলাম ধর্ম প্রচারক মাও. আজিজুর রহমান নেসারাবাদী (কায়েদ সাহেব হুজুরের) দৌহিত্র ডক্টর ফয়জুল হক পারিবারিক ঐতিহ্যগতভাবেই বহু আগে থেকে সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জড়িত। তিনি বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে নিজ উপজেলা রাজাপুর ছাড়াও কাঁঠালিয়াবাসীর মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।

ভদ্র ও দানশীল বলে পরিচিত ডক্টর ফয়জুল হক আগামি সংসদ নির্বাচনের জন্য স্থানীয়ভাবে রয়েছেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বয়সে তরুণ, কাজে-কর্মে অদম্য স্প্রিহা থাকা এই নেতার ব্যক্তি হিসেবেও স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে জনগণের কাছে।

এলাকাবাসীর দাবি- সুখে-দুঃখে আমরা আমাদের পাশে সন্মানিত কায়েদ সাহেব হুজুরের এই দৌহিত্র সদ্য ডক্টরেট ডিগ্রী পাওয়া ফয়জুল হক কে দেখতে চাই। যিনি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কথা সংসদে বলবেন। কাজ করবেন জনগণের কল্যাণে ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে।

শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় উৎসাহ প্রদানে চষে বেড়িয়েছেন রাজাপুর-কাঠালিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়া তিনি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ নানান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহযোগিতা করছেন নিয়মিত। রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এমএম হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সুপেয় পানির জন্য টিউবওয়েল স্থাপন, মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরের উন্নয়নে অর্থ প্রদান করে আসছেন।

এছাড়া তিনি দুই ঈদে স্থানীয় গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে থেকে খোঁজ খবর নেওয়াসহ অর্থ সহযোগিতা করে থাকেন। বিগত কয়েক বছর থেকেই ফয়জুল হক এলাকার গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। সাধ্যের সর্বোচ্চটুকু বিলিয়ে দিচ্ছেন। ফলে রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া’র জনগনের নেতা থেকে বর্তমানে গন মানুষের নেতা হিসেবে পরিনত হয়েছেন।

ঝালকাঠি-১ আসনের বিভিন্ন লোক মুখে জানা যায় সদালাপি, হাস্যজ্জল ও পর-উপকারী এই গণ-মানুষের নেতার বিকল্প কাউকে ভাবছে না রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ার মানুষ।

তার এহেন কর্মকাণ্ডে রাজাপুর ও কাঁঠালিয়াবাসী খুশি হয়ে আগামীতে ঝালকাঠি-১ আসনের এমপি হিসেবে জাতীয় সংসদে ডক্টর ফয়জুল হককে দেখতে চান।