মার্কেট সীমিতভাবে খুলে দেওয়ার আহ্বান ব্যবসায়ীদের

 মোঃরাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে সামাজিক দূরত্ব, জীবাণুনাশক ছিটানো, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হাতধোয়া, মাস্ক পরার শর্তে শপিং সেন্টারগুলো সীমিত সময়ের জন্য খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আসন্ন ঈদের আগে দোকান মালিক, শ্রমিক ও ক্রেতাদের সুবিধার্থে প্রতিদিন ৪-৬ ঘণ্টা করে দোকান খোলা রাখার জন্য সরকারের সুদৃষ্টি চেয়ে চট্টগ্রাম চেম্বারে চিঠি দিয়েছেন ব্যবসায়ী সমিতিগুলো।

দেশের অন্যতম বড় পাইকারি কাপড় বিপণিকেন্দ্র টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহমেদ হোসাইন বলেন, আমাদের এখানে আড়াই হাজার কাপড়ের দোকান ও শোরুম। প্রতি বছর রমজানে ২ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হতো। এবার একেবারে শূন্য। দোকানমালিক, শ্রমিক, কর্মচারীরা চরম উদ্বেগ, আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আমরা চট্টগ্রাম চেম্বারে চিঠি দিয়েছি যাতে রমজানে অন্তত সীমিত সময়ের মধ্যে টেরিবাজারের দোকানগুলো খোলা রাখার সুযোগ সৃষ্টি করা যায়। ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এসব বিষয় দোকানমালিকরাই নিশ্চিত করবেন। প্রশাসন তদারকি করতে পারেন। তিনি জানান, তামাকুমণ্ডি লেন ব্যবসায়ী সমিতিসহ নগরের বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতিও নির্দিষ্ট সময় দোকান খোলা রাখার বিষয়ে চেম্বারকে চিঠি দিয়েছে।

সরকার অনুমোদন দিলে একেকটি মার্কেট একেক সময় খোলা রাখা যেতে পারে। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির চট্টগ্রাম জেলা সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ খুরশিদ আলম বলেন, চট্টগ্রাম, তিন পার্বত্য জেলা মিলে আড়াই লাখ দোকানমালিক। ৫০ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী। মুদি ও ওষুধের দোকান ছাড়া সব বন্ধ। এসব দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, আসন্ন ঈদ সামনে রেখে সীমিত সময়ের জন্য দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হোক। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার দায়িত্ব দোকানমালিকরাই নেবে। তিনি বলেন, অনেক দোকানমালিক পুঁজি হারাচ্ছেন। দোকানের পণ্যের মেয়াদ চলে যাচ্ছে। ইঁদুর, পোকায় খাচ্ছে পণ্যসামগ্রী। ব্যাংক ঋণ, ধারদেনার বোঝা, দোকানভাড়া, কর্মচারীর বেতন-মজুরিসহ খরচের পাল্লা ভারী হওয়ায় দিশেহারা অনেকে। বেশি শ্রমিক পরিবার নিয়ে কষ্টে জহুর হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল আমিন বলেন, আমাদের এ মার্কেটে এক হাজারের বেশি ছোট বড় দোকান। পুরো বছরের ৭০ ভাগ ব্যবসা হতো রমজান মাসে।

 

এবার করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসার বারোটা বেজে গেছে। দোকানমালিক, কর্মচারীরা চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতি চট্টগ্রাম চেম্বারে চিঠি পাঠিয়েছে রমজানে সীমিত সময়ের জন্য দোকান খোলা রাখার সুযোগ সৃষ্টির জন্য। বিষয়টি আমরা এফবিসিসিআইয়ের সভায় উত্থাপন করেছি। এটি জাতীয় সমস্যা। ঈদের জন্য বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই শাড়ি, পাঞ্জাবি, জুতা, লুঙ্গি, জামা-কাপড়সহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ করেছে। সারা দেশে এ মৌসুমে ৩৭ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যবসা হয়। আশাকরি, সরকার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে দেখবে।