মারা গেলেন বিদেশী ফিলিপাইনি নাগরিক রুয়েল এসত্রেলা কাতান

মোঃ রাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চিকিৎসা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত মারা গেলেন ফিলিপাইনি নাগরিক রুয়েল এসত্রেলা কাতান। গত ৪ জুন থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ১০ টায় তার মৃত্যু হয়। কাতান (৫০) চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠা নামায় নিয়োজিত বেসরকারি অপারেটর সাইফ পাওয়ার টেকের শিপ প্ল্যানার পদে কর্মরত ছিলেন।

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম ফিলিপাইন কন্সুলেট জেনারেলের চীফ অফ ষ্টাফ শেখ হাবিবুর রহমান জানান, চমেক হাসপাতালের ১নং ওয়ার্ডের ২৮নং বেডে তাকে রাখা হয়েছিল। অক্সিজেন সেচুরেশান কমে যাবার কারনে তাকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, হলি ক্রিসেন্টে নেবার ব্যবস্থা করা হলেও সেখানে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা যাচ্ছিল না।

আপাতত অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে দেবার জন্য কাতানের কর্মস্থল সাইফ পাওয়ারের কর্মকর্তা মোশারফ হোসেনকে অনুরোধ করা হলেও তিনি অপারগতা জানিয়েছেন। তবে সাইফ পাওয়ারের কর্মকর্তা মোশাররফ হোসাইন প্রতিবেদককে জানান, কাতানকে ইম্পেরিয়াল হসপিটালে ভর্তির জন্য যোগাযোগ করা হয়েছিল৷ কিন্তু করোনা টেস্টের রিপোর্ট না পাবার কারনে সেটি সম্ভব হয়নি৷

একই কারনে নগরীর কোন বেসরকারী ক্লিনিকও তাকে ভর্তি নিতে চাইনি। তবে তিনি চমেক হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বিদেশী হিসেবে তাকে আলাদা করেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল৷ তাকে অক্সিজেনও দেয়া হচ্ছিল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে। তারপরও সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সুবিধা যাতে পায় সেজন্যই মুলত বেসরকারী ক্লিনিকে স্থানান্তর করার চেস্টা করা হচ্ছিল৷

মুত্যুবরন করা কাতানের বন্ধুরা জানান, ৩ জুন থেকে করোনা টেস্টের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি। গতকাল থেকে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাকে বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তির চেস্টা করা হয়। শুক্রবার হলি ক্রিসেন্ট ছাড়া কোন হাসপাতালেই তার জন্য কেবিনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয় নি। তিনি সিইপিজেডের সাইফ পাওয়ারটেকে কর্মরত ছিলেন। গত ৩ জুন তিনি কভিড-১৯ পরিক্ষার জন্য নমুনা জমা দেন চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে।

কভিড এর উপসর্গ নিয়ে তিনি পরদিন থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেলেই ভর্তি হলেও নমুনা দেবার ১৬ দিনেও মেলেনি টেস্ট রিপোর্ট। এই বিষয়ে চট্টগ্রাম ফিলিপাইন কন্সুলেট জেনারেলের চীফ অফ ষ্টাফ শেখ হাবিবুর রহমান বহু চেস্টাা তদবির চালিয়েও টেস্ট রিপোর্ট সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানা যায়৷ কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন বর্তমানে তার করোনার কোন উপসর্গ ছিল না।

তবে তিনি শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন । যেটা উনার অতিরিক্ত ওজনের জন্যও হতে পারে। কন্সুলেটের চীফ অফ স্টাফ সহ আরো কিছু ফিলিপাইনের নাগরিক বিভিন্ন হাসপাতালে তাকে ভর্তির জন্য চেস্টা করলেও কোথাও কেবিন খালি নেই বলে জানায় নগরীর বেসরকারী ক্লিনিকগুলো। শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রামের হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালে একটি কেবিনের ব্যবস্থা হলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় তারা অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারবে না।

এই নিয়ে মিঃ কাতানের কোম্পানীর সাথে অক্সিজেন সরবরাহ করার জন্য যোগাযোগ ও অনুরোধ করা হলে তারাও অপারগতা জানায় অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে দিতে। মিঃ কাতান চট্টগ্রামের হালিশহর হাউজিং এলাকায় একা বসবাস করেন। তার পরিবার ফিলিপাইনে থাকে। মুলত চট্টগ্রামে বসবাসরত ফিলিপাইনের নাগরিকরা তার চিকিৎসার বিষয়টি দেখ ভাল করে আসছিল৷ সাইফ পাওয়ার থেকে কোন ধরনের সহযোগিতা করা হয়নি বলে জানা যায়৷

চিকিৎসা না পেয়ে বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টিকে চরম অব্যবস্থাপনা বলে দেখছে কাতানের পরিবার। চট্টগ্রামে বসবাসরত ফিলিপাইনের নাগরিকরাও তার মৃত্যুর বিষয়টিকে চিকিৎসা ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনা হিসেবে দেখছেন৷ তারা অসুস্থ কর্মিকে চিকিৎসা সহযোগিতা না করায় সাইফ পাওয়ারকে দায়ী করছেন।