মানব সেবার অপর নাম বটতলার করোনা স্বেচ্ছা-সেবক ইউনিট

 রফিকুল ইসলাম, রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : করোনা মহামারির ভয়াল থাবায় গুরুত্বপূর্ণ ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্ম দিবস, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ, ১ মে শ্রমিক দিবস, ৬ মে বুদ্ধ পূর্ণিমা, ২৫ মে পবিত্র ঈদুল ফিতরসহ বেশ কয়েকটি জাতীয় দিবসের আনন্দ হয়ে গেছে নিরানন্দ। স্থবির হয়ে গেছে গোটা বিশ্ব। অর্থণীতির চাকাও বন্ধ প্রায়। এমন পরিস্থিতিতে কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর বটতলা করোনা স্বেচ্ছা সেবক ইউনিট সাধারণ মানুষের পাশে কাজ করছে অদম্য সাহসিকতায়।

পাশে দাড়িয়েছে নিরীহ মানুষের। করোনা বিস্তার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, জীবানুনাশক স্প্রে, উপজেলার বাহির থেকে আগতদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত, গণজমায়েত বন্ধ, শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখা, অসহায় ও দুস্থ্যদের খাদ্য সামগ্রী পৌছানো, এলাকায় মাদক ও জুয়া বন্ধকরণসহ সকল কাজ করছে এসব স্বেচ্ছা-সেবীরা। স্বেচ্ছা-সেবকদের উদ্যোগে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঈদ উপহার হিসেবে ৬০০ পরিবারের কর্মহীন বৃদ্ধ নারী-পুরুষদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে লাচ্চা, চিনি ও গুড়া দুধ বিতরণ করেছে তারা।

ঈদ পরবর্তী গণজমায়েত বন্ধে ঈদের দিনসহ প্রতিনিয়ত স্বেচ্ছা শ্রম দিচ্ছে ইউনিটের তরুনরা। উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেক এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিধ ও রাজিবপুর স্বেচ্ছা সেবক ইউনিট সমূহের প্রধান সমন্বয়কারী রোকনুজ্জামান রাজু জানান, করোনা মহামারি ছাড়াও যেকোন দুর্যোগ, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলাসহ দুস্থ্য ও অসহায় মানুষের জন্য সমাজের যেকোন বিপদগ্রস্থ্য ব্যক্তিদের নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা দীর্ঘস্থায়ী। আমরা একটি স্বেচ্ছা সেবী ফান্ড গঠণ করেছি। ফান্ডে কিছু তহবিলও রয়েছে। সেচ্ছা সেবকদের ব্যক্তিগত ও বিত্তবানদের সহযোগিতায় ভবিষ্যতের যেকোন পরিস্থিতি আমরা মোকাবেলার চেষ্টা করবো। এ বিষয়ে চর রাজিবপুর বটতলা করোনা স্বেচ্ছা সেবক ইউনিট প্রধান হারম্নন মাষ্টার জানান, আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস বাস্তবায়নে ইউনিটের সকলের স্বেচ্ছাশ্রম ও আন্তরিকতার কারণে সম্ভব হচ্ছে। তবে আমাদের এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

স্বেচ্ছা সেবকদের কার্যক্রমে অভিভূত হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আকবর হোসেন হিরো এবং উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুল হাই সরকার জানান, করোনা ক্রান্তিকালে স্বেচ্ছা সেবকদের তৎপরতায় রাজিবপুর উপজেলা এখনও করোনা মুক্ত রয়েছে ইনশালস্নাহ্‌। সেলুট জানাই এসব স্বেচ্ছা সেবকদের। দলমত নির্বিশেষে কাজ করছে চর রাজিবপুর বটতলা স্বেচ্ছা সেবক ইউনিট। এ ইউনিটে যুক্ত রয়েছে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, স্কুল শিক্ষক, সরকারী চাকুরীজীবি, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, রিক্সা-ভ্যান চালকসহ সকল স্তরের ৩০ জন সদস্য, যারা সকলেই নিজ উদ্যোগে কাজ করছে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে।

করোনা প্রাদুর্ভাবে দেশে সর্ব প্রথম কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার চর রাজিবপুর বটতলা নামক স্থানে এই স্বেচ্ছা-সেবক ইউনিট গঠিত হয়, যা বাংলাদেশে একটি মডেল স্বেচ্ছা সেবক ইউনিট হিসেবে পরিচিত। ইউনিটের কার্যক্রম দেখে পার্শবর্তী উপজেলা রৌমারীসহ পুরো কুড়িগ্রাম এবং জামালপুর জেলার কিছু উপলায় গঠিত হয়েছে এমন স্বেচ্ছা সেবক ইউনিট। বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চরাঞ্চলীয় উপজেলা রাজিবপুরকে এগিয়ে নিতে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করায় বিত্তবানদের অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অনুরোধসহ ধন্যবাদ জানিয়েছেন উপজেলার সচেতন মহল।