মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা শেরপুর সদর থানার ওসি মামুন

 সোহেল রানা, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি : সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া মহামারী প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হাত থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচাতে, নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পুলিশ বিভাগ। তার ধারাবাহিকতায় করোনা যুদ্ধে সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে শেরপুর জেলা পুলিশ। দক্ষ ও মানবিক পুলিশ সুপারের কারনেই এসব সম্ভব হচ্ছে বলে মনে করেন জেলাবাসী। জেলা পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম পিপিএম এর নির্দেশে ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আমিনুল ইসলামের তত্বাবধানে মহামারী করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় শেরপুরের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মামুন।

তিনি গেল বছরের ৩০মে সদর থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে যোগদান করেন। অত্যন্ত নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার সাথে তিনি গত ১টি বছর কাজ করে যাচ্ছেন। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপশি নতুন করে সকল পুলিশ সদস্যদের নিয়ে করোনাযুদ্ধে নেমেছেন তিনি। নিজের পরিবার ও পরিজনের কথা না ভেবে শেরপুরবাসীর জন্য দিনরাত পরিশ্রম করছেন। সকাল থেতে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের সেবায় নিয়জিত রেখেছেন ওসি মামুন। তার নেতৃত্বে উপজেলার জনসাধারণকে এই মহামারী থেকে দুরে সরিয়ে রাখতে বিভিন্ন ভাবে অগ্রণী ভুমিকা পালন করে যাচ্ছেন সদর থানা পুলিশ। নিজেদের লোকজন করোনা পজেটিভ হওয়ার পরেও সরে যায়নি তার দায়িত্ব থেকে। বরং করোনা আক্রান্ত পুলিশ পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।

একাধীক সূত্রে জানাযায়, এসব কিছুই সম্ভব হয়েছে জেলা পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম পিপিএম এর জন্য। করোনায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার মসজিদ, মন্দির, বাজার মনিটরিংসহ পাড়া-মহল্লা, মোড়ের চায়ের দোকান গুলোতে গিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে করোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন সচেতনতা মূলক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। ওসি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মামুন সদর উপজেলার প্রতিটি বাজারে গিয়ে হ্যান্ড মাইকিং করে জনসাধারণকে সচেতন করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বøক রেইডের মাধ্যমে চেকপোস্ট করাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড করতে দেখা গেছে থানা পুলিশকে।

এ ছাড়াও এলাকার মানুষকে সর্বসময় পরিস্কার-পরিছিন্নতার মধ্যদিয়ে নিজ-নিজ বাড়িতে থাকার আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছেন এবং পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে অসহায় দিনমজুর খেটে খাওয়া ঘরবন্দী ও কর্মহীন মানুষদের খোঁজ খবর নিয়ে তাদের মাঝে সাধ্যমতো খাদ্য সামগ্রীও তুলে দিচ্ছে নকলা থানা পুলিশ। এতে করে জেলা পুলিশ তথা পুরো পুলিশ বিভাগের উপর মানুষের আস্থা ও ভালবাসা দিন’দিন বেড়ে যাচ্ছে। করোনা ভাইরাসের কারনো দেশে শ্রমিক সংকট পড়ায় জেলা পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে ও তার দিক নির্দেশনায় নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশ, থানা পুলিশ ও ছাত্রলীগের সহায়তা অসহায় কৃষকদের ধান কেটে দিচ্ছেন এবং এবং ধান কাটতে উৎসাহ প্রদান করছেন ওসি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মামুন।

ইতিমধ্যে ওসি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মামুনের সকল প্রকার কার্যক্রম প্রশংসনীয় হয়ে উঠেছে উপজেলাবাসীর কাছে। শেরপুর সদর থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মামুন “শেরপুর প্রতিদিন”কে জানান, জেলা পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম পিপিএম স্যার আমাদের অভিভাবক। সবকিছুই সম্ভব হয়েছে স্যারের জন্য। সব সময় স্যার আমাদের দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন এবং স্যারও দিনরাত করোনার বিরোদ্ধে লড়াই করছেন। স্যারই আমাদের উৎসাহ ও প্রেরণা। আমাদের সাহস এসপি স্যার। তাছাড়া আমরা কাজ করি জনগনের জন্য। তাদের ভালমন্দ আমাদেরই দেখতে হবে।

দেশের এই ক্লান্তি লগ্নে আমরা যদি সরে যেতাম তাহলে মানবিক পুলিশ হতে পারতাম। আমরা আজ গর্বের সাথে বলতে পারি আমরা পুলিশ। আমাদের করোনা যুদ্ধে রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, ডাক্তার, স্বেচ্ছাসেবক, স্টুডেন্ট কমিউিনিটি পুলিশিং ফোরাম, ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ স্থানীয়রা সাধারণ লোকজন অনেক সহযোগিতা করেছে। সবার সমন্বয়ে আমরাই পারব করোনাকে জয় করতে। করোনা ভয় বা আতঙ্ক না, এটি একটি সাধারণ রোগের মতই রোগ। সচেতন ও সামাজিক দূরুত্বসহ স্বাস্থ্যবিধি মানলেই জয় করা সম্ভব।