মানবতার ফেরিওয়ালা খাবারের ফেরিওয়ালা শার্শার উদ্ভাবক মিজান

জসিম উদ্দিন, বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোরের শার্শা উপজেলার তরুণ সমাজ সেবক মটর মেকানিক দেশ সেরা উদ্ভাবক মিজানুর রহমান এখন খাবারের ফেরিওয়ালা হিসাবে ব্যাপক পরিচিত লাভ করেছে।

করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতার কারনে গোটা বিশ্ব যখন থমকে গেছে। লকডাউনে গৃহবন্দী যখন সকল শ্রেণি পেশার মানুষ।

তখন সব থেকে অসহায় হয়ে পড়া মানুষ ও বেওয়ারিশ কুকুর এবং পশুপাখিদের মাঝে খাবার তুলে দিতে শুরু করেন মিজান।

প্রথমে নিজস্ব উদ্যোগ এবং নিজের উপার্যিত টাকা দিয়েই খাবার নিয়ে ছুটে বেড়ান যশোর জেলার অলিতে গলিতে। পরে তার এই মহানুভবতা দেখে একে একে মিজানের সাথে খাদ্য সহায়তায় এগিয়ে আসেন বিভিন্ন ব্যক্তি সংগঠন এবং উপজেলা প্রশাসনও। যে কার্যক্রম চলমান।

তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল বিশেষ এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে খাদ্য সামগ্রী, মাক্স ও আর্থিক সহযোগিতা করা হয়। মিজানের সাথে একাত্ত্বতা করে সহযোগিতায় ছিলেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভুমি) খোরশেদ আলম চৌধুরী এবং তরুণ সমাজ সেবক আসাদুজ্জামান সাঈদ।

সাহায্য সহযোগিতা করেন এমন এক বিশেষ প্রতিবন্ধি ব্যক্তিকে যে জন্ম থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধি। একান্ত আলাপ চারিতায় জানা যায়, প্রতিবন্ধি ব্যক্তিটির নাম শুকুর আলী। যশোর জেলার বালিয়া ভেকুটিয়া গ্রামের প্রতিবন্ধি আব্দুর রশিদের ছেলে এই শুকুর আলী। একই সংসারে বাবা ও ছেলে দুজনই প্রতিবন্ধি হওয়ায় ভিক্ষাবিত্ত করেই সংসার চলে তাদের।

স্ত্রী এক মেয়ে মা বাবা এবং এক ভাইকে নিয়ে শুকুর আলীর ঢিলেঢালা সংসার। শারীরিক প্রতিবন্ধি নড়বড়ে শরীর নিয়ে হুইল চেয়ারে করে দারে দারে ভিক্ষাবিত্তি করে কোন মতে খেয়ে না খেয়ে চলে শুকুর আলীর জীবন সংসার।

সম্প্রতি স্থানীয় একটি এনজিও সংস্থা থেকে ৬০ হাজার টাকা লোন নিয়ে একটি মটর ভ্যান তৈরি করে ভিক্ষাবিত্তি চালাচ্ছেন তিনি। যে লোনের কিস্তির টাকা সংগ্রামী জীবনের কঠোর পরিশ্রম করে শোধ করতে হচ্ছে। যা খুবই কষ্টদায়ক।

করোনা ভাইরাসের লকডাউন চলা অবস্থায় যখন থমকে গেছে মানুষের জীবন যাত্রা, কমে যায় শুকুর আলীর আয় রোজগার। মেলেনা কোন সাহায্য কোন সহযোগিতা।

ঠিক সেই সময় শুকুর আলীর সাথে দেখা মেলে খাবারের ফেরিওয়ালা উদ্ভাবক মিজানের সাথে। করোনা ভাইরাস সচেতনতা মুলক লিফলেট ও মাক্স বিতরণ করে শুকুর আলীকে খাদ্য সহায়তার আস্বস্ত করেন মিজান।

গতকাল উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উদ্ভাবক মিজান শুকুর আলীকে শার্শায় ডেকে চাল, ডাল, আলু সহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী শুকুর আলীর হাতে তুলে দেন।

প্রতিবন্ধি শুকুর আলী জানান, মিজান ভাইয়ের এই সাহায্য সহযোগিতা কখনও ভুলতে পারবোনা। খাবারের ফেরিওয়ালা হিসাবে যে মহানুভবতা তিনি দেখিয়ে চলেছেন আল্লাহ তার জন্য অবশ্যই ভাল কিছু উপহার দিবেন।

উদ্ভাবক মিজান বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারনে যে কাজ আল্লাহ আমাকে দিয়ে করাচ্ছেন আমি ইতিমধ্যে তার ফলাফল পেয়েছি। মানুষের এতো ভালবাসা পেয়েছি যা আমার জীবনকে তাদের ভালবাসায় বদলে দিয়েছে। যতদিন দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হচ্ছে ততদিন আমার এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।

পাশাপাশি শুকুর আলীকে সরকারি ভাবে যদি আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা করা যায় তাহলে তার ভ্যান গাড়িটির কিস্তির টাকা পরিশোধ হবে এবং মানবেতর জীবনযাপনে কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে মনে করেন তিনি।