মাধবদীতে বকেয়া বেতন না পাওয়ায় আসফিয়া ডাইং শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসুচী

সুমন পাল, মাধবদী (নরসিংদী) প্রতিনিধিঃ সরকার ঘোষিত সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে জনগনকে নিরাপদ রাখতে সকল শিল্প কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তারই প্রেক্ষিতে নরসিংদীর মাধবদী ফুলতলা এলাকায় অবস্থিত আসফিয়া ডাইং বন্ধ করে দেওয়া হয়। ডাইং কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হলেও পরিশোধ করা হচ্ছে না মিলে কর্মরত প্রায় ২শতাধিক শ্রমিকের বেতন।

আসফিয়া ডাইং এন্ড প্রিন্টিং মিলস এর শ্রমিক মিঠু সাংবাদিকদের বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে মালিক পক্ষ গত মাসের ২৫ তারিখে মিল বন্ধ করে দেয় এবং আজ এক মাস পাচ দিন পর আমাদের বেতন দিবে বলেছে। অর্থাৎ এপ্রিল মাসের ২৫ তারিখে বেতন দেওয়ার কথা বলে বেতন দেয়নি। তারপর বললো মঙ্গলবার দিবে তাও দেয়নি। ২৯ এপ্রিল বুধবার বলতেছে মাত্র নয় দিনের বেতন দিবে। কিন্তু এই নয় দিনের বেতন দিয়ে আমরা কি করবো? এখানে দেশি-বিদেশি শ্রমিক আছে। তারা ম্যাচ বিল, রুম বিল দিবে কি করে? তারা খাবে কি আর বাবা-মা কে ই কি দিবে আপনারাই বলেন? আমার জানা মতে প্রায় এক থেকে দেড়শো শ্রমিক বেতন পায়নি। তাই আমরা মিলের গেইটের সামনে শান্তি পূর্ণ অবস্থান নিয়েছি। আমাদের দাবী যদি নয় দিনের বেতন দেয় তবে ফুল বোনাস দিতে হবে। আর যদি ফুল বোনাস না দেয় তবে ফুল বেতন দিতে হবে।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শ্রমিক বলেন, আমাদের মালিক আমাদের কোন খোঁজ-খবর নেন না। শ্রমিকদের বেতন আটকিয়ে দিয়ে তিনি আমাদের সাথে অমানবিক আচরণ করতেছেন। মানবিক দিক বিবেচনা করেও তিনি এই দুর্যোগ মুহুর্তে আমাদের পাশে দাড়ান নি। তিনি আমার জানা মতে একমুঠো ত্রাণ বা খাদ্য সহায়তাও কোন শ্রমিক কে করেন নাই। আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে কি ভাবে বাচবো? তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবী আমাদের বেতনটা ঠিকমতো দিলে আমরা অন্তত সন্তানের মুখে দুমুঠো খাবার দিতে পারবো।

তবে মিলের মালিক কে মিলে পাওয়া যায়নি। মিল মালিক পক্ষের একজন মোবাইলে কথা বলার ব্যবস্থা করে দেন মিলের মালিক মোঃ মাহাবুব আলম এর সাথে। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কথা বললে তিনি জানান, ব্যাংক বন্ধ থাকায় যথাসময়ে বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি। আর ফুল বেতন বা বোনাস দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ হিসাবে তিনি বলেন আমাদের ব্যবসায়িদের সমিতির নিয়ম কানুন মেনে চলতে হয়।

সাধারণ শ্রমিকদের প্রশ্ন হলো আমরা কোথায় গেলে আমাদের ন্যায্য অধিকার পাব। যে শ্রমিকদের পরিশ্রমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টিকে থাকে, সেই শ্রমিকদের টাকা মেরে কিসের ব্যবসায়ী সমিতি। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।