মাধবদীতে পাইকারচর ইউনিয়নে সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ৫

 সুমন পাল, মাধবদী(নরসিংদী)প্রতিনিধিঃ করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণের বিস্তার রোধে বাংলাদেশে লকডাউন চলছে। জনগণকে বাঁচাতে সরকার ঘরে থাকার আহবান জানিয়েছে এবং বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়ারও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু সেই লকডাউন ভেঙে চলছে মারামারি যা খুনাখুনি পর্যন্ত গড়িয়েছে। করোনা ভাইরাস যখন মানবতা প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিচ্ছে ঠিক সে সময়ই কিছু মানুষ মানবতা কেড়ে নেওয়ার উন্মাদনায় মেতে উঠেছে। গত ২৭ মে বুধবার বারোটার সময় বানিয়ারচর এলাকার মোঃ আশিক কে তার দুই বন্ধু আরাফাত ও রমজান বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় ছনপাড়া নরেশ্বর্দীতে।

আশিক সেখানে পৌছানো মাত্রই পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসাবে তার উপর হামলা করে প্রতিপক্ষের লোকজন লতিফ, রমজান, আরাফাত গংরা। তারপর বিষয়টি আশিক তার বাড়িতে মোবাইলে জানালে তার বাড়ির লোকজন ঘটনা কি হয়েছে তা জানার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থল পৌঁছামাত্রই প্রতিপক্ষের লোকজন ছুরি, চাপাতি, রামদা, লোহার রড সহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে।

এতে একজন নিহত ও আরো পাঁচজন মারাত্মক ভাবে আহত হয় বলে সাংবাদিকদের জানান আশিক। নিহতের আরেক ভাই রাজু বলেন, কেন তারা আমার ভাই কে মারলো তা জানা হলো না। তিনি বলেন, পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে তারা আমাদের লোকজনের উপর ডেকে নিয়ে হামলা করেছে। ইয়াছিন কে গাছের সাথে বেধে মারধর করার পর আবার তাকে কুপিয়েছে।

ইব্রাহিমের পায়ের রগ কেটে হত্যার চেষ্টা করেছে। এই নির্মম হত্যার বিচার চাই এবং হত্যাকারীদের ফাসি চাই। ন্যায় বিচার চাই যাতে অপরাধীদের পরিণাম দেখে আর কেউ এমন অমানবিক হত্যা কান্ড ঘটাতে সাহস না পায়। তবে অভিযুক্ত লতিফ গংদের বাড়িতে গেলে তার মা আর বোন ছাড়া কাউকেই পাওয়া যায় নাই।

তাদের সাথে যোগাযোগের কোন উপায় না পেয়ে কথা হয় লতিফের বোন কুসুমের সাথে। কুসুম বলেন, নিহতের লোকজন আমার ভাইদের কে কয়েকবারই মারধর করেছে এবং তাদের হামলায় আমাদের একজন আহত হয়েছে যার নাম রতন। ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে স্পষ্ট করে কোন পক্ষই কোন কিছু জানাতে পারেন নাই।

বিষয়টি নিয়ে পাইকারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাশেম এর সাথে সাক্ষাতে কথা হলে তিনি বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। লতিফ গংদের বাড়িতে জুয়ার আড্ডা সহ নানা ধরনের অপকর্ম চলে। তাদের ভয়ে প্রতিবেশীরা মুখ খোলার সাহস পায় না। আমার জানামতে, মাধবদী থানায় এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

অপরাধীদের পুলিশ গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনলে এলাকায় এমন অপরাধ ভবিষ্যতে আর কেউ করার সাহস পাবে না বলেই আমি মনে করি। ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ ন্যায় বিচার পাবে আশা করি। বিষয়টি নিয়ে কথা হয় মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ আবু তাহের দেওয়ান এর সাথে। তিনি বলেন থানায় মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

হামলায় আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান লিটন। তাছাড়া গুরুতর আহতরা হলো ইব্রাহিম, সিয়াম, মাসুম, ইয়াছিনও আশিক মিয়া।