মাদারীপুরে মেধার যোগ্যতায় বিনা পয়সায় পুলিশে চাকরি পেল ২৪ তরুণ-তরুণী

প্রণব কুমার সাহা, মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি: মাদারীপুরে মেধার যোগ্যতায় বিনা পয়সায় পুলিশে চাকুরি পেলো ২৪ তরুণ-তরুণী।

শৈশবের নানা প্রতিকুলতা পেরিয়ে যৌবনে পা’ দিয়ে জীবন যুদ্ধের স্বপ্ন জয়ে পুলিশে চাকরী পেয়ে মহা খুশি ২৪ তরুণ-তরুণী। পাশাপাশি আনন্দের বন্যা বইছে ওইসব পরবিারে।

কোন উৎকোচ বা ঘুষ ছাড়াই যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেনিং রিক্রুটিং কনস্টেবল পদে সদ্য নিয়োগে মাদারীপুরে হতদরিদ্র পরিবারের ২৪ তরুণ-তরুণী

দেশ-সেবার মহান পেশায় যুক্ত হওয়ায় সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন। এই ২৪ জনের মধ্যে ২১ জন তরুণ এবং ৩ জন তরুনী।

বিভিন্ন কোটা থেকে তাদেরকে যাচাই-বাছাই করে নিয়োগ দেয়া হয়। যেমন, সাধারণ কোটা, মুক্তিযোদ্ধা কোটা, পুলিশ পোষ্য কোটা

এবং আনসার ও ভিডিপি কোটা। শুধু চাকরি নয়, নিয়োগপ্রাপ্তদের সব ধরনের মেডিকেল চেকআপ বিনামূল্যে করার ব্যবস্থা করেন মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. গোলাম মোস্তফা রাসেল।

স্বচ্ছতা ও সততার এ বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। এসব চূড়ান্ত প্রার্থীর অভিভাবকরা কখনো বিশ্বাসই করতে পারেননি তাদের সন্তানদের টাকা ছাড়া পুলিশে চাকরি হবে।

এ উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় মাদারীপুর পুলিশ লাইনসে টিআরসি পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. গোলাম মোস্তফা রাসেল।এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারগন সহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় কনস্টেবল পদে সদ্য নিয়োগে জেলার ৯৫০ জনের মধ্যে

মাদারীপুরের বিভিন্ন উপজেলার ২৪ তরুণ-তরুনী প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে। তারা শুধুমাত্র ১৩৫ টাকার আবেদন ফরম কিনে এই চাকরি পেয়েছেন।

এদের মধ্যে অধিকাংশই অতিদরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাদের অনেকেই পিতা-মাতা হারা। আবার কেউ-কেউ অতিদরিদ্র কৃষক, দিনমুজুর, রিক্সা-ভ্যান ও ট্রাক চালকের কাজ করছেন।

পরে তিনি সবাইকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এবং মিষ্টি মুখ করান। পুলিশে সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত নাহিদ হোসেন বলেন, অভাবের সংসারে বড় হয়েছি।

কোনদিন ভাবিনি ঘুষের টাকা ছাড়া সরকারি কোন চাকরি পাবো। আজ শুধুমাত্র ১৩৫ টাকায় আবেদন করে পুলিশের চাকরী পেয়েছি।

ইতোমধ্যে মোবাইলে আমার পরিবারের সাথে কথা বলেছি, তারা আমার চাকরির কথা শুনে আনন্দে কান্নায় ভেংগে পরেছেন।

আমি আজ সত্যি আনন্দিত এবং মহান আল্লাহর দরবারে কোটি কোটি শুকরিয়া আদায় করছি। এসময় অন্যান্য নিয়োগ প্রাপ্ত তরুন-তরুণীরা আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেন।

নাম পদবী প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান সময়ে উৎকোচ, ঘুষ বা তৎবির ছাড়া যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরী অবিস্বাস্য হলেও

এবারের নিয়োগে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোঃ গোলাম মোস্তফা রাসেল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। নাহিদদের মতো দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা

মেধা ও যোগ্যতায় পুলিশে চাকুরী লাভ করায় এ বাহিনীর ভাবমূর্তি আরোও উজ্জল হবে।