মাতৃহারা সন্তানদের জন্যই উখিয়া থেকে আখাউড়ায় বউ আনলেন পুলিশ কর্মকর্তা

জহিরুল ইসলাম সাগর, আখাউড়া প্রতিনিধিঃ করোনা ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই কক্সবাজারের উখিয়া থেকে বিয়ে করে আখাউড়ায় বৌ নিয়ে এসেছেন আলী আক্কাছ সুমন নামে পুলিশের এক এএসআই। মাতৃহারা দুই সন্তানের কথা ভেবেই অভিভাবকদের সম্মতিতে করা হয়েছে এই বিয়ে। তবে ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতে এমনটি করায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুরু হয়েছে তার বিরুদ্ধে অপহরণসহ বিভিন্ন গুজব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের ধর্মনগর গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ আহমেদ এর ছেলে মো. আক্কাছ কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাড়তি দায়িত্বের জন্য এএসআই আক্কাছকে কক্সবাজারের উখিয়ায় পাঠানো হয়। উখিয়া ও রামু উপজেলার সীমান্তবর্তী স্থানে তিনি একটি আবাসিক হোটেলে থাকতেন। ওই হোটেলের মালিকের ভাতিজিকে তিনি বিয়ে করেন। গাড়ি করে বৌকে নিয়ে রাতে আখাউড়ায় পৌঁছান।

আলী আক্কাছ সুমন জানায়, যতটুকু সম্ভব নিয়ম মেনে বিয়ে করেছে। উখিয়া থানার ওসিকেও বিষয়টি জানানো হয়। কনেদের নিজস্ব গাড়িতে জীবানুনাশক স্প্রে করে বাড়িতে আসা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় কোন আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সামাজিক নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে পারিবারিক মর্যাদায় দায়সাড়া বিয়ে সম্পন্ন করার পরও এলাকায় তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত গুজব রটিয়ে সামাজিক ভাবে হয়রানি করছে। কোন আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সুমন তার নববিবাহিতা স্ত্রী কে নিয়ে তার নিজ বাড়ীতে আসলে এলাকায় গুজব রটানো হয় একজন পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও মেয়েটি কে অপহরণ করে নিয়ে এসে বাড়িতে রাখা হয় এবং কোভিট ১৯ স্বাস্থ্যবিধি যথাযথ মানা হয়নি। এই অবস্থায় বিব্রত হয়ে এলাকার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন কে নিশ্চিত করেছেন প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কোন কর্মকাণ্ড করা হয়নি।

আক্কাছের চাচা মো. জয়নাল আবেদীন বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আক্কাছ তাঁর বৌ নিয়ে এখন বাড়িতেই অবস্থান করেছেন। আক্কাছের আগের স্ত্রী ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তার ছোট ছোট দুইটি সন্তান রয়েছে। এসব দিক বিবেচনা করে আক্কাছ বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। পারিবারিকভাবে আলোচনা করে রবিবার তাদের বিয়ে পড়ানো হয়। তবে আখাউড়া থেকে বিয়েতে কেউ যায়নি। বাড়িতে আসার পর কনের চাচা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুর রশিদ বরের বাড়িতে আসেন। তবে কোনো ধরণের আনুষ্ঠানিকতা ছিলো না।

নববধুর চাচা ও সুমনের চাচা শ্বশুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আমিনুর রশিদ প্রতিবেদক কে জানান, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে নিরাপদ দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী উভয় পক্ষের অভিভাবকের সম্মতিতে এই বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং এখানে কোন অসংগতি ছিল না যদিও কেউ কেউ গুজব রটিয়ে ভিন্ন খাতে প্রবাহিতের অপচেষ্টা করেছে। তিনি আরো বলেন, সুমনের পরিবার বলছে সে সরকারি চাকুরী তে থাকলে মাতৃহারা ২ টি শিশু অসহায় হয়ে পড়ার দরুন তাদের বিয়ে জরুরি ছিলো। কিন্তু এই অবুঝ শিশু দুটির অসহায়ত্বের সুযোগ ও বিয়ে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্যের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সবারই মা বোন সংসার জিন্দেগীর মায়াজাল রয়েছে কোন কিছু ভালোভাবে না জেনে না শুনে কারো সাংসারিক ক্ষতি করা ঠিক নয় এটা দুঃখজনক তাই আমি নবদম্পতির জন্যে সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি। এসময় তিনি আবেগময় হয়ে পড়েন।