মাগুরায় মায়ের হাতে সন্তান খুন

কৌশিক আহম্মেদ সোহাগ, মাগুরায়:  রবিবার আনুমানিক দুপুর একটার সময় মাগুরা হাজ্বী রোডের কলেজ পাড়ায় মৃত শাহাদাত হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া সুফিয়া বেগম তাঁর তিন বছরের কন্যা সন্তান মাহী কে গলা টিপে হত্যা করে পরবর্তীতে তার ব্যবহারকৃত গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন ধরিয়ে বাসা ও তার মেয়েকে পোড়ানোর চেষ্টা করে।

সুফিয়া মাগুরা শহরের বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াটিয়া হিসাবে বিভিন্ন বাসায় বসবাস করে আসছে,সুফিয়া ঝালকাটি জেলার নলসিটি থানার দক্ষিণ খাজুরা গ্রামের মৃত শাহাজউদ্দীনের মেয়ে। মাগুরা লক্ষীকান্দরের ২য় স্বামী মনু মীয়ার স্ত্রী সুফিয়ার মাহী ৩য় কন্যা সন্তান। জানা যায় মনু মিয়া তার মেয়ে মাহীর দুই মাস বয়সের সময় তার স্ত্রী সুফিয়ার ডিভোর্স দেয়।

অন্যদিকে সুফিয়ার ১ম স্বামী আবু তালেবের দুটি কন্যা সন্তান তানজিয়া ও নাজিয়া থাকা সত্ত্বেও তাদের খোঁজ খবর নেয় না তার স্বামী। দুপুর ১টার সময় এলাকার স্থানীয় লোকজন ভাড়াটিয়া সুফিয়ার তিন তালা বাসায় আগুনের ধোঁয়া দেখে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস খবর দেয়।

ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসী মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে এবং মাহীকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার পরীক্ষিত পাল তাঁকে মৃত ঘোষণা করে। পরে মাহীকে তাঁর নিজ বাসায় ফিরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে মাগুরা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

মাহীর মা সুফিয়া সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন যে তিনি তাঁর তিন বছরের কন্যা সন্তানকে গলা টিপে হত্যা করেছেন।কী কারণে হত্যা করেছেন এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি নিজে ক্যান্সারের রোগী আমি নিজেও বাঁচব না আমার মেয়েকেও বাচিঁয়ে রাখব না এ জন্যই আমি আমার কন্যাকে হত্যা করেছি, আমার মেয়েকে কোন পুরুষ লোকের ভোগের বস্তু হিসাবে ভোগ করতে দেব না।

তবে এ ব্যাপারে আমি কাউকে দোষারোপ করব না। স্থানীয় সূত্রে কাছ জানা যায় সুফিয়ার চিকিৎসার জন্য নানা রকম পারিবারিক কলহের জন্যই সে তার মেয়েকে হত্যা করেছে। উল্লেখ্য সুফিয়ার দুই স্বামীর মধ্যে মাহীর বাবা মনু মিয়া ২য় পক্ষ এবং প্রথম পক্ষের স্বামী আবু তালেবের দুই কন্যা সন্তান তানজিয়া অনার্স ও নাজিয়া উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণীতে পড়ালেখা করে।

তার প্রথম পক্ষের কন্যাদ্বয় তার বোন মাহীর বিচারের দাবী জানাচ্ছে প্রশাসনের কাছে।পরে মাগুরা সদর থানার পুলিশ সুফিয়াকে আটক করে ও মাহীর লাশ পোষ্ট মেটর্মের জন্য মাগুরা সদর হাসপাতলা পাঠানো হয়।এব্যাপারে মাগুরা সদর থানার ওসি তদন্ত সাঈদুর রহমানকে জীজ্ঞাসা করলে তিনি জানান পুলিশের প্রাথমিক জজীজ্ঞাসাবাদে সুফিয়া স্বীকার করেছে তিনি তার কন্যা মাহীকে নিজে গলা টিপে হত্যা করেছে।