মাগুরাকে সুরক্ষিত রাখতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মাগুরা অক্সিজেন ব্যাংক

 আব্দুস সালেক মুন্নাঃ বৈশ্বিক মহামারি করোনার আগ্রাসী থাবা থেকে মাগুরাকে সুরক্ষিত রাখতে নিরলস কাজ

করে যাচ্ছে “মাগুরা অক্সিজেন ব্যাংক”।

প্রধান স্বেচ্ছাসেবী সেবা সংস্থা “সেবা বাংলাদেশ” গত ২০১৬ সাল

থেকে বিনামূল্যে রক্তদান,

অসহায়কে খাদ্য বিতরণ সহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের অন্যতম প্রধান সমস্যা শ্বাসকষ্ট।

এ সমস্যার সমাধানে রোগীকে প্রয়োজন অনুযায়ী অক্সিজেন সরবরাহ করা জরুরি।

সময়মতো অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব না হলে

করোনা রোগীর জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সারা দেশে,

বিশেষ করে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অক্সিজেন

সহজলভ্য করার বিষয়টি প্রায় এক বছর ধরে আলোচনায় থাকা সত্ত্বেও দেশের বহু অঞ্চলে এখনো অক্সিজেন সংকট কাটেনি।

এরই মধ্যে দেশে কয়েকদিন ধরে করোনায় মৃতের সংখ্যা মাত্রা ছাড়িয়েছে।

মাগুরার পরিস্থিতিও ভালোর দিকে না থাকায়।

সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানুষের সেবায় এগিয়ে আসার মন-মানসিকতা ধারন করেই মানুষের কল্যাণে ফ্রি

অক্সিজেন সেবা নিশ্চিত করতে

“সেবা বাংলাদেশ” এর অন্তর্ভুক্ত “মাগুরা অক্সিজেন ব্যাংক” টিম কাজ করছে।

প্রতিষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়ক

জনাব খন্দকার শফিকুল হাসান উজ্জল জানান

মহামারী মোকাবেলায় আমরা সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে চাই।

এরই ধারাবাহিকতায় আমরা

মানবিক কিছু মানুষকে সাথে নিয়ে মানুষের বিপদে পাশে এসে দাঁড়িয়েছি।

স্বল্প সামর্থ্যের উপর ভিত্তি করে

আমরা (সেবা বাংলাদেশ ও মাগুরা অক্সিজেন ব্যাংক) বর্তমানে মাগুরাবাসীর

সুবিধার্থে যে যে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছি সেগুলোর মধ্যে,

করোনাকালীন সময়ে করোনা আক্রান্ত যে কোনো রোগীকে বিনামূল্যে

অক্সিজেন, ওষুধ, টেলিমেডিসিন সেবা সহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান।

অসহায়, দরিদ্র, অতিদরিদ্র রোগীদের কে সহযোগিতার জন্য

বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেয়া, করোনা প্রতিরোধে

স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক বিভিন্ন ক্যাম্পেইন করা, বিভিন্ন মসজিদ প্রাঙ্গণে, ঈদগাহ ময়দানে মাস্ক পরিধানে উদ্বুদ্ধ

করার জন্য বিনামূল্যে মাস্ক প্রদান এবং

করোনা সচেতনতামূলক বিশেষ বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতি তুলে ধরা,

করোনার প্রতিষেধক হিসেবে ভ্যাক্সিন সার্বজনীন করার জন্য

বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী বুথ বসিয়ে সম্পূর্ণ ফ্রিতে

টিকা নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করা করোনাকালে

নিম্নআয়ের মানুষের মৌলিক চাহিদা-খাদ্য নিশ্চিতের জন্য

আমরা কাজ করা সহ

ঈদুল আযহার কালে ঈদ সামগ্রী সহ লকডাউন এ পড়ে থাকা মানুষেরজন্য অন্তত সাত

দিনের খাবার প্রদান করার সাথে কিছু নগদ অর্থও উপহার হিসেবে দেয়ার চেষ্টা করেছি।

সর্বোপরি-

আমাদের স্বেচ্ছাসেবকদের নিজেস্ব অর্থায়ন ও কিছু সহৃদয়বান ব্যক্তির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আমরা এ

মহামারিতে মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

সমাজকে মহামারির কাছ থেকে জয়ী করতে হলে

সামাজিক ঐক্যবদ্ধতার বিকল্প নেই।

আমরা চাই আমাদের পাশে, মানুষের পাশে আপনিও থাকুন।

আমাদের হাতকে আরোও দৃঢ় করুন।