মহেশপুরে যাদবপুর কলেজের বিতর্কিত ৩ শিক্ষকের অবশেষে পদত্যাগ

মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল,মহেশপুর প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের মহেশপুরের যাদবপুর কলেজের তিন শিক্ষকের একই সাথে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন। নতুন এমপিও হওয়ায় এই তিন শিক্ষকের ব্যাংক একাউন্টে জমা হয়েছে সাত লাখ ৪৮ হাজার ১০০ টাকা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ঝড় উঠলে কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৩ বিতর্কিত শিক্ষক পদত্যাগপত্র জমা দেয়।

কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল আলম জানান, গণিতের শিক্ষক শরিফুল ইসলাম, পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক হাবিবুর রহমান ও ইসলাম শিক্ষক মাওলানা হাফিজুর রহমান তথ্য গোপন করে চাকুরিতে ঢোকেন। কলেজটি ২০১৯ সালে এমপিওভুক্ত হলে তাদের বিলপত্র ব্যাংক একাউন্টে জমা হয়। পরবর্তীতে জানা যায় ৩জনই অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে চাকুরির টাকা উত্তোলন করে থাকে। তিনি বলেন, তারা যেকোন এক জায়গায় চাকুরি করবে।

কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্য ডাঃ সালাউদ্দিন জানায়, পরিচালনা পরিষদের সভায় ঐ ৩ শিক্ষক কে তলব করা হয় এবং ১২ই জুলাই এর মধ্যে তারা কলেজ থেকে পদত্যাগ করার অঙ্গিকার করে।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল মহেশপুরের যাদবপুর কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতেই কলেজটিতে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন চৌগাছার মাকাপুর-বল্লভপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানবিভাগের শিক্ষক শরিফুল ইসলাম, এবিসিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানবিভাগের শিক্ষক হাবিবুর রহমান এবং মহেশপুরের জলুলী দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা হাফিজুর রহমান। এই তিন শিক্ষক কলেজে যোগাদান করলেও তাদের আগের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাকতা অব্যাহত রাখেন এবং এমপিও অনুযায়ী নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন। তবে ২০১৯ সালে যাদবপুর কলেজটিকে সরকার এমপিও ভুক্ত করলে তারা সেই তালিকায় ওঠেন। এজন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এরিয়া হিসেবে এক বছরের বেতন-ভাতা পান। ইতিমধ্যে কলেজটি থেকে নিয়মিত বেতন পাওয়ার পাশাপাশি এরিয়ার টাকাও তাদের ব্যাংক হিসেবে জমা হয়ে গেছে। একই সাথে তারা এখনো স্কুলের শিক্ষক হিসেবে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল আলম জানিয়েছেন, তাদের একাউন্টের টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি খাতে ফেরত দেওয়া হবে।