মহাদেবপুরে বাংলাদেশ লীলা কীর্তন সম্প্রদায়ের প্রণোদনার দাবীতে মানববন্ধন

মো: নুর কুতুবুল আলম, বাগমারা প্রতিনিধি : নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় বাংলাদেশ লীলা কীর্তন সম্প্রদায়ের প্রণোদনার দাবীতে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার সাড়ে এগারো ঘটিকায় উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের কুমিরদহ মহাশ্মশান ও রাধা গোবিন্দ মন্দিরের সামনে ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধনে তাঁদের দাবী দাওয়া তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন,

বাংলাদেশ লীলা কীর্তন এ্যাসোসিয়েশনের নওগাঁ জেলা সভাপতি কীর্তনীয়া ডাঃ সুভাষ চন্দ্র মন্ডল, মন্দির কমিটির সভাপতি ভূপেন্দ্রনাথ অধিকারী,সাধারণ সম্পাদক অজিত চন্দ্র দেবনাথ, সংঘের সদস্য সুকমল প্রামানিক, শিকেন কুমার সাহা প্রমুখ। অন্যাদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, কীর্তনীয়া পরিমলেন্দু, পরেশ বর্মন, বিরেন্দ্রনাথ সরকার, রুহি দাস, জয়িতা দাসী, সনত কুমার,সুবোধ কৃষ্ণ বর্মন,ধীরেন্দ্রনাথ বর্মন, পঞ্চান্দ পান্ডে, নয়ন হালদার,নিতাই দেবনাথ, গৌউর দেবনাথ, গুরুপদ প্রামানিক, রাধা রানী, রিতা মহন্ত, শতরূপা হালদার, নন্দিনি হালদার, প্রামানিক,অনুরাধা মহন্ত, প্রমিলা দেবী, শিখা হালদার, কুমারী নূপুর হালদার, বেলী রানী মহন্ত, পূজা রায় শ্রেয়া, স্মৃতি সূত্রধর, প্রদীপ চক্রবর্তী, অনিতা দেবনাথ, জয়ন্তী বর্মন, মিনা রানী বর্মন, নন্দ রানী দেবনাথ, নিস্কৃতি মন্ডল, প্রিয়া বর্মন, লিপি বর্মন কৃষ্ণা দাসী।

বাংলাদেশ লীলা কীর্তন এ্যাসোসিয়েশনের নওগাঁ জেলা সভাপতি কীর্তনীয়া ডাঃ সুভাষ চন্দ্র মন্ডল দেশনেত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতার মা উল্লেখ করে বলেন, আপনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নেঘেরা দেশ মাতৃকার পুর্ণ রূপকার । আপনি বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের রক্ষক, ধারক, বাহক এবং মাতৃরূপিনী। বর্তমান বহির্বিশ্ব হতে আগত মহামারী এই করোনা ভাইরাস জনিত কারণে বহু লোকের প্রাণ হানি ঘটছে। লক ডাউনের সময় মানুষ বাইরে বের হতে পারছিল না। ব্যাবসা, বাণিজ্য, ও নানা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এবং কর্ম সংস্থান না থাকায় মানুষ খেয়ে, না খেয়ে মানবেতর জীবন জাপন করছে।

মানুষের বিপদ মুহূর্তে আপনি নানা প্রকার ত্রাণ এবং প্রণোদনা দিয়ে থাকেন। বাংলাদেশ শিল্প, সাহিত্য এবং সংস্কৃতিমনাদেশ। সেইদেশে মহামারী করোনা ভাইরাস জনিত কারণে, বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। সে কারণে এদেশে যে সমস্ত লীলা কীর্তন সম্প্রদায় আছে যারা গান কীর্তন করে সংসার এবং জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন, আজ তাঁরা পুরোটায় বেকার হয়ে পড়েছে। সে কারণে অনাহারে অর্ধাহারে ছেলে, মেয়ে নিয়ে কালাতি পাত করছে।

মননীয় প্রধান মন্ত্রী, বিষয়টি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী, বেদনাদায়ক, ব্যথাতুর। বিভিন্ন দূর্যোগে, আপদে, বিপদে, আপনি আপনার উদারতা, মহানুভবতা এবং হৃদ্রতা নিয়ে দুখী মানুষের পাশে হাঁসি ফোটানোর জন্য শান্তির অগ্রদূত হয়ে দাঁড়ান । যাহা বাংলার আপামর ১৮ কোটি মানুষ স্বাক্ষ্য বহন করে । গরীব, দুঃখী মানুষের মুখে হাঁসি ফোটানোই আপনার প্রথম শর্ত বা অঙ্গীকার যা আপনি নিজেই বলেছেন । বিধায় মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, জেলা, উপজেলা, এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে যে সমস্ত লীলা কীর্তন সম্প্রদায় রেজিস্টার ভুক্ত এবং যারা রেজিস্টার ভুক্ত নন, তাদের অনতি বিলম্বে নামের তালিকা করে একটি মাসিক ভাতা প্রদানের জন্য আপনার মহানুভবতা,উদারতা এবং সদয় দৃষ্টি কামনা করছি ।

সেই সাথে ১. বাংলাদেশ লীলা কীর্তন সম্প্রদায়ের মানোন্নয়ন এবং স্থায়ী ব্যবস্থা করণ ২.বাংলাদেশ লীলা কীর্তন সম্প্রদায়ের মাসিক ভাতা প্রদান ৩.বাংলাদেশ লীলা কীর্তন সম্প্রদায়ের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা ৪. বাংলাদেশ লীলা কীর্তন সম্প্রদায়ের রেজিষ্ট্রিকরণসহ নানা দাবী দাওয়া পূরণ ও বাস্তবায়নে মানবতার মা, দেশরত্ন মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।