মফস্বল সাংবাদিকদের ক্ষত হৃদয়ের বোবা কান্না কেউ দেখেনা

নুরুল আমিন দুলাল ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ সাংবাদিক গন জাতির বিবেক। বাংলাদেশ গড়ার প্রথম লগ্ন থেকে মুক্তির আন্দোলন, সংগ্রাম সহ দেশ ও জনগনের ক্রান্তিলগ্নে সাংবাদিকদের ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য। সরকার প্রধান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আমলা সকল শ্রেনী পেশার মানুষ সাংবাদিকগনের লিখনী, কলম, সংবাদ প্রেরনকে অধিকতর গুরুত্ব সহকারে দেখে এবং অনেকে।

অসাধু,দূর্বিত্ত,অপরাধীরা সাংবাদিকদের সংবাদকে ভয় পায়। ক্ষমতার চেয়ারে বসানো এবং নামানোর ব্যাপারে ও সাংবাদিকদের ভূমিকা ইতিহাস স্বাক্ষী আছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বর্তমান অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স যথাঃ-নিজ দলীয় লোকজন সহ অপরাধীদের গ্রেফতার, সাঁড়াশি অভিযান সফল হতে সাংবাদিকগনের ভূমিকা মূখ্য।

কিন্তু দূর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে জাতির বিবেক সাংবাদিকদের সরকারী,বেসরকারি সুযোগ,সুবিধা টি,এ-ডি, এ বোনাস, চিকিৎসা ভাতা,হাউস রেন্ট, অবসর ভাতা, সন্তানদের শিক্ষাসহ রাষ্ট্রের কোন দায়িত্ব পালন নেই।

স্বাধীন বাংলাদেশে গ্রাম পুলিশ সহ কত সংস্থা সুযোগ নিচ্ছে রাষ্ট্র থেকে,কিন্তু রাষ্ট্র গঠনে জাতির জন্য নিরলস পরিশ্রম করে অজপাড়া গাঁ,তৃনমুলের সংবাদ যারা সমগ্র জাতি,রাষ্ট্রকে প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত প্রদান করে যাচ্ছে তথাপিও রাষ্ট্র জাতির বিবেক সাংবাদিকগনের ব্যাপারে দায়িত্বহীন।

লক্ষীপুর জেলা প্রেসক্লাব,সকল সাংবাদিক বৃন্দ এবং রায়পুর উপজেলা প্রেসক্লাব,রিপোটার্স ইউনিট,রিপোরটার্স ক্লাব সহ টি,ভি চ্যানেল,অনলাইন সাংবাদিকবৃন্দের সাথে কিছুটা চলাফেরা করে ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা থেকে দেখলাম সাংবাদিকদের ব্যাপক কোন চাহিদা ও নাই তাদের, সংবাদ প্রেরনেই তারা তৃপ্তি পায়।

তথাপিও কিছু অপদার্থ আছে জাতির বিবেক সাংবাদিকদের মূল্যায়নে কৃপন। সাংবাদিকগন কাহারো পক্ষে বা বিপক্ষে নয় নিউজ কারো কর্মের বিপক্ষে যায়,কারো কর্মের পক্ষে যায়। পক্ষের নিউজ খুব ভালো লাগে,সত্য নিউজ বিপক্ষে গেলে খারাপ লাগে।

কাজি জামসেদ কবির বাক্কিবিল্লাহ আরো বলেন, বাস্তবতা এটাই করোনাকালে সর্বাধিক ঝুঁকি নিয়ে যাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে সাংবাদিকরা তাদের মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশের মতো জনবহুল ও উন্নয়নশীল দেশে এই ঝুঁকি অনেক বেশি।

এ দেশের মফস্বল সাংবাদিকদের জন্য সেই ঝুঁকি আরো বিস্তৃত ও বহুমুখী। মফস্বল সাংবাদিকদের চিরসঙ্গী অর্থনৈতিক সংকট যেমন এই সময়ে তীব্রতর হয়েছে তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকি সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছেছে। স্মরণকালের মহাসংকটে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জে পড়েছে জেলা-উপজেলা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলো।

বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই মানুষের মধ্যে সংবাদ জানার আগ্রহ ও চাহিদা বেড়েছে অনেক বেসি। গ্রামের একেবারে নিভৃত পল্লী কিংবা দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষটি এখন সবার আগে সর্বশেষ খবরটি পেতে চায়। বিশেষ করে নিজ এলাকা থেকে শুরু করে সারাদেশ এমনকি সারাবিশ্বের সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতি জানতে সবাই উদগ্রীব। মানুষের এই চাহিদাকে মাথায় রেখেই ‘সব কাজের কাজী’ খ্যাত মফস্বল সাংবাদিকদের এখন প্রধান বিটে পরিণত হয়েছে ‘করোনা আপডেট’।

কোথায় কে করোনায় আক্রান্ত হলো, কে আক্রান্ত অবস্তায় বা উপসর্গে মারা গেল, উপসর্গে মৃতের নুমনা সংগ্রহ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন করা হয়েছে কিনা এসবের খবর রাখতে হয় নিত্যদিন।

পাশাপাশি উপসর্গে মৃতদের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট কী, আক্রান্ত মৃতদের বাসা-বাড়ি লকডাউন হলো কিনা, উপজেলা-জেলাভিত্তিক দৈনিক আক্রান্ত মৃতের তথ্য সংগ্রহ করতে হয় প্রতিনিয়ত ।