মধুপুরে একই পরিবারে চারজনকে হত্যা

হাফিজুর রহমান, মধুপুর.ধনবাড়ী( টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভার উত্তরা আবাসিক এলাকায় একই পরিবারের চার সদস্য খুনের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের স্বজনদের কান্নায় পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে মধুপুর পৌরসভার উত্তরা আবাসিক এলাকা থেকে পাশের পোদ্দারবাড়ী গ্রামের গাজিবুর রহমান গাজীর ছেলে মো. ওসমান গণি ওরফে গণি (৪৫), তার স্ত্রী তাজিরন ওরফে তানিয়া ওরফে বুচি (৩৭), ছেলে তাইজুল ইসলাম তাজেল (১৭) ও মেয়ে সাদিয়া খাতুন(৯)-এর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মধুপুর পৌর শহরের উত্তরা আবাসিক এলাকায় মো. ওসমান গণি দম্পতি জমি ক্রয় করে একতলা ওয়ালশেড বাড়ি করেছেন।

এক বছর যাবৎ পরিবার-পরিজন নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করছিলেন। তিনি মধুপুরে পুরানো রিকশা-ভ্যান-অটোর ব্যবসা করতেন। গত দু’দিন যাবত তার বড় মেয়ে সোনিয়া (২০) ফোন করে তার বাবা-মায়ের কোন সাড়া না পেয়ে বাসায় এসে গেটে তালা লাগানো দেখেন। পরে তিনি আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান।

স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একরুমে মা-মেয়ে, অপর দুই রুমে ওসমান গণি ও তার ছেলে তাইজুল ইসলাম তাজেলের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পায়।
নিহত গনি শেখের শ্যালক শেখ সালাম (৩০) জানান, মধুপুর পৌরসভার পোদ্দারবাড়ী মৌজার গোলাবাড়ি ব্রীজের পাশেই ওসমান গনির গ্রামের বাড়ি। গত এক বছর আগে পৌরশহরের উত্তরা আবাসিক এলাকায় জমি কিনে বাড়ি করে বসবাস শুরু করেন। নিহতের ছেলে তাজেল ভাইঘাট কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষে ও মেয়ে সাদিয়া টেকিপাড়া আলহোদা মাদ্রাসার ২য় শ্রেণির ছাত্রী।

উত্তরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আ. রাজ্জাক (৪০) জানান, মধুপুর শহরে তারা এক সাথে পুরানো রিকশা-ভ্যান-অটোর ব্যবসা করতেন। ওসমান গনির গ্রামের বাড়ির প্রতিবেশী সালেহা (৫০), আখি বেগম (৩০), সুজন মিয়া (২৫) জানান, একবছর আগে ওসমান গনিরা মধুপুরে জমি কিনে বাসাবাড়ি করে সেখানে চলে গেছেন। এ বাড়িতে তার মা থাকেন। তারা মাঝে-মধ্যে এ বাড়িতে বেড়াতে আসতেন। এ পরিবারের সাথে কারো ঝগড়া-বিবাদ ছিল না বলে তারা জানান।

প্রতিবেশীরা আরো জানান, কয়েকদিন আগে মা ও মেয়ে বাড়িতে এসেছিল। আকস্মিক এ ঘটনায় ওসমান গনির বৃদ্ধা মা ছেলে-বউ-নাতি-নাতনি হারানোর শোকে বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। তিনি এ হত্যাকান্ডের হোতাদের শাস্তি দাবি করেন।

মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিক কামাল জানান, ক্রাইমসিন পরিদর্শনের পর মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে। এ মুহূর্তে প্রাথমিকভাবে হত্যাকান্ডের কারণ জানা যায়নি, তবে তদন্ত করে রহস্য উদঘাটন করা হবে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিব কুমার রায়, মধুপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কামরান হোসেন, মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ তারিক কামাল, টাঙ্গাইলে কর্মরত র‌্যাব, পিবিআই ও ডিবি’র তদন্ত দল।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিব কুমার রায় জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশ ময়না তদন্ত করার পর ও পুলিশি তদন্তের পর এই হত্যা কান্ডের মূল রহস্য জানাযাবে ।
হাফিজুর রহমান