ভয়ংকর শত্রুতার অবসানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না গাজায়

ইসরায়েল ও ২০ লাখ জনসংখ্যার ঘনবসতিপূর্ণ গাজার শাসকগোষ্ঠী হামাসের মধ্যে ভয়ংকর শত্রুতারঅবসানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, অন্যান্য দিনের মতো রোববার (১৬ মে) রাতভর গাজার রাস্তা, নিরাপত্তা

ভবন, হামাসের ট্রেনিং ক্যাম্প এবং আবাসিক ভবনগুলোতে বোমা বর্ষণ করেছে ইসরায়েল। প্রত্যক্ষদর্শীরা

বলেন, গাজার বিভিন্ন অঞ্চলে রাতভর বোমা হামলার শব্দ শোনা গেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, গাজা থেকে বীরসেবা ও অ্যাশকেলন শহরে রকেট হামলার পর তাদের

যুদ্ধবিমানগুলো উচ্চপদস্থ হামাসের ৯ জন নেতার বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়িগুলো অস্ত্রের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

তবে এসব হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে, গাজায় ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফিলিস্তিনের

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার দিনব্যাপী হামলায় গাজায় ১০ শিশুসহ ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে,

হামাসও পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে নিরবচ্ছিন্ন রকেট হামলা চালিয়েছে।

এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এক টুইটে চলমান উত্তেজনা নিরসনে উভয়পক্ষকে শান্ত হওয়ার

আহ্বান জানিয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘দুপক্ষকেই উত্তেজনা হ্রাস করতে হবে – এই সহিংসতা অবিলম্বে শেষ হওয়া উচিত।’

গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে চলমান সংঘাতের বিষয়ে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের পরই ব্লিঙ্কেন এই টুইট করেন।

গত রোববার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা ইসরায়েল, ফিলিস্তিনি ও

সংশ্লিষ্ট অন্যদের কাছে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ‘পক্ষগুলো যদি যুদ্ধবিরতি কামনা করে তবে সমর্থন দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে।’

এদিকে, যত দিন প্রয়োজন গাজায় হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

অন্যদিকে, হামাসও তাদের প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছে।

আল জাজিরার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯২ জনে

দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে ৫৮টি শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন এক হাজার ২০০ জনের বেশি।

অন্যদিকে ইসরায়েলের হামলার জবাবে হামাস প্রায় ৩ হাজার রকেট ছুড়েছে। এতে ইসরায়েলে এখন পর্যন্ত ১০

জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

২০১৪ সালের পর থেকে গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই ইসরায়েল ও গাজার মধ্যে চলা সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াই।