ভোলা-৩ আসনের এমপি ত্রাণ নিয়ে বিধবার বাড়িতে

হাসান পিন্টু, ভোলা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি:  সোমবার রাত ১২ টার দিকে ভোলা-৩ আসনের এমপি নূরুন্নবী চৌধুরী শাওনের ফোনে কল আসে এক বিধবা অসহায় নারীর। ওই নারী জানান তারা ২-৩ দিন ধরে না খেয়ে আছেন। ক্ষুদার জ্বালায় ঘরের শিশু বাচ্চাটিও অবিরত কান্না করছে। এখন তাদের বাসায় খাবারের খুব প্রয়োজন। ওই নারীর মুখে এমন কথা শুনে রাতেই উপজেলার বদরপুর এলাকার চাঁন মিয়া মাঝি বাড়িতে বেঁড়িবাধের দুর্গম এলাকায় খাদ্য সামগ্রী ও শিশুর জন্য দুধ নিয়ে ছুটে যান এমপি নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন। ওই বাড়িতে গিয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাসে নিজের অনুভূতি তুলে ধরেন তিনি। নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন এমপি নামের আইডি থেকে দেয়া স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহুব তুলে ধরা হলো: সারাদিন কর্মহীন ও দু:স্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘুমোতে যাবার উপক্রম। এমন সময় হটাৎ ফোন বেঁজে উঠল।

রিসিভ করতেই ওপার থেকে কান্নার আর্তনাদ…! স্যার, আমরা গরীব মানুষ। নদীপাড়ে খাস জায়গায় থাকি। সরকারী ত্রাণ যাহা পেয়েছি সবই শেষ হয়ে গেছে। আজ ২-৩ দিন যাবৎ আমরা না খেয়ে আছি। ঘরের বাচ্চাটি কান্নাকাটি করতেছে। আমরা এখন কি করব স্যার? কি খেয়ে রোজা রাখব? কথাগুলো কান দিয়ে শ্রবণ করলেও আমার ভেতরটা জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। আবার ফোন করলাম সেই নাম্বারে। ফোন দিয়ে ওর সাথে কথা বলে কিছু ত্রাণ নিয়ে ছুটলাম নদীপাড়ের দিকে। কিছুদুর যাবার পর গাড়ী আর চলছে না। সদ্য সমাপ্ত বৃষ্টি শেষে স্যাঁতসেতে মাটির উপর দিয়ে বেড়ীবাঁধের কোল ঘেষে চললাম দূর্গম পথের অভিযাত্রীর ন্যায়। ক্লান্ত শরীর মোটেই সাহায্য করছে না হাত-পাঁ কে। তারপরও ভাবলাম আমার এই কষ্টের বিনিময়ে ২-৪টি পরিবার যদি কিছু খেতে পারে, ছোট বাচ্চাটির মুখে হাসি ফুটতে পারে এখানেই আমার স্বার্থকতা। কিছুক্ষণ পরই পৌঁছে গেলাম সেই বাড়ীতে। কতটা অসহায় ও গরীব এরা যেন পদ্মা নদীর মাঝির গল্পকে হার মানিয়েছে এদের জীবন। আমাকে পেয়ে তারা কত যে মহাখুশি ভাষায় সেটা প্রকাশ করতে পারবনা। সবার হাতে খাবারের প্যাকেট ও হাতে কিছু নগদ টাকা গুঁজে দিলাম। রাত ২.০০ টা অতিক্রম করে চলেছে। নিজ বাসার পথে চললাম।