ভোগান্তির শেষ নেই খুলনা মোংলা মহাসড়কে

ইয়াছিন আরাফাত, মোংলা প্রতিনিধি:  দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর বন্দর বাগেরহাটের মোংলা সমুন্দ্র বন্দর। প্রতিনিয়ত মোংলা বন্দরে যাতায়াত করে হাজার হাজার গাড়ি। তবে পন্য বোঝাই গাড়ির সংখ্যায় বেশি। খুলনা- মোংলা মহাসড়কের বেলায় ব্রীজ এলাকা থেকে দিগরাজ বাজার এলাকা অবদি সড়কের বেহাল দশা। রাস্তার কোন প্রকার অস্তিত্বই নেই। কাদা, পানি আর খানা খন্দকে ভর্তি এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রতিনিয়ত পন্য বোঝায় করে চলাচল করছে হাজার হাজার গাড়ি।

বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেহাল দশা চালকদের দাবী এই রাস্তায় তারা জীবন হাতে নিয়েই গাড়ি চালায়। এতটা খারাপ অবস্থা যে, একটু এদিক থেকে ওদিক হলেই পণ্য সহ গাড়ি উল্টে পড়তে সময় নিবেনা। কর্তৃপক্ষের দাবী প্রতিদিন তারা সংস্কার করছে কিন্তু ওভার লোডের কারণেই রাস্তার ধারণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। এদিকে রাস্তার বিভিন্নস্থানে ডেবে উচু-নিচু হয়ে আছে। একটু বৃষ্টি হলেই এসব খানাখন্দে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হচ্ছে। পানি কাদায় বোঝার উপায় নেই এটি একটি জাতীয় মহাসড়ক। ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এর উপর দিয়ে শত শত ভারী পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করছে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে গাড়ি চালকদের। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর মোংলা বন্দরে যাবার একমাত্র সড়কের এমন পরিস্থিতি মোটেও কাম্য নই বলে ধারণা সকলের। ট্রাক চালক আসাবুর এর সাথে কথা হলে বলে, আমরা প্রতিদিন লোড গাড়ি নিয়ে পোর্টে যাতাযাত করি। আমাদের ঝুকি নিয়ে চালাতে হয়।

একটু এদিক ওদিক হলেই গাড়ি উল্টে যাবার সম্ভাবনা থাকে। সরকারের কাছে আমাদের দাবী যাতে দ্রুত রাস্তাটা যাতে ঠিক করে দেই। মিরাজ বলেন, এই রাস্তায় যখন ট্রাক নিয়ে প্রবেশ করি তখন গাড়ির ব্যালেন্স করা অনেক কষ্ট হয়ে যায় । তাছাড়া গাড়ীর অনেক ক্ষতি হয়। সরকারের কাছে একটাই দাবী যাতে এই সড়কটি দ্রুত ঠিক করে দেই। বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেহাল দশা এব্যাপরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফরিদ উদ্দিন চ্যানেল এস কে বলেন, খুলনা -মোংলা জাতীয় মহাসড়কের বাগেরহাটের দৈর্ঘ্য ৩০ কিলোমিটার। এই ৩০ কিলোমিটারের ভিতর বেলাই ব্রীজ থেকে দিগরাজ বাজার অবদি ৫ কিলোমিটার সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে বিটুমিন দিয়ে সংস্কার করা সম্ভব না। বর্ষা মৌসুমে কাজ করা সম্ভব না তবে আমরা প্রতিনিয়ত সোলিং এইচ বিবি করে রেগুলার কাজ করে যাচ্ছি যাতে যাতায়াতের সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব হয়।

তবে বর্ষা মৌসুম শেষে আমরা রুটিন মেইনটেনেন্স এর কাজ করবো। আগামী ডিসেম্বর মাসে আমরা এই রুটিন মেইন্টেনেন্স এর কাজ শুরু করবো। তিনি আরো বলেন, এই জাতীয় সড়কটি মেয়াদের আগেই নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রধান ও অন্যতম কারণ হচ্ছে ওভারলোড। অতিরিক্ত পন্য নিয়ে যাকায়াতের কারণে এই সড়ক বেশি নষ্ট হয়। আর সবথেকে বড় সমস্যা হল এই সড়কটির প্রশস্থ মাত্র ২২ ফুট অর্থাৎ ২ লেনের সড়ক। তাছাড়া আরো একটি বড় সমস্যা হল ওভারলোড।