ভৈরবে হাত পা মুখ বেধে রিক্সা চালককে ফেলে গেল কবরস্থানে

জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি:  ভৈরবে গভীর রাতে কাশেম মিয়া (৫৭) নামে এক রিক্সা চালকের হাত পা মুখ বেধে পৌর কবরস্থানের ভিতরে ফেলে রেখে গেল ছিনতাইকারি জীবন ও তার সঙ্গিয়রা। কাশেম মিয়াকে ফেলে রেখে যাবার সময় তার অটোরিক্সা ও নগত চার থেকে পাচঁশত টাকা নিয়ে যায়। ৯ জুন মঙ্গলবার আনুমানিক রাত তিনটার সময় ভৈরব পৌর কবরস্থানের ভিতরে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, গত মঙ্গলবার ভোর রাতে কাশেম মিয়া (৫৭) নামে এক রিক্সা চালক বাস ষ্ট্যান্ড এলাকা হইতে ষ্টেশনে আসছিল।

পৌর কবরস্থানের সামনে আসা মাত্রই আমলাপাড়া গ্রামের চিহ্নিত ছিনতাইকারি জীবনসহ আরো কয়েকজন মিলে রিক্সার গতি রোধ করে রিক্সা চালক কাশেমকে মারধর করে রিক্সাটি ছিনিয়ে নেয়। কাশেম মিয়া বাধা দিলে তাকে দড়ি দিয়ে তার হাত পা মুখ বেধে ফেলে। ছিনতাইকারিরা কাশেম মিয়াকে বেধে টেনে হেছড়ে কবরস্থানের পেছনে একটি পুকুরে ফেলে দিতে নিয়ে যায়। তখন অনেক কান্নাকাটি করে জীবন ভিক্ষা চাইলে কাশেম মিয়াকে ছিনতাইকারি জীবন ও তার সঙ্গিয়রা কবরস্থানের ভেতরে ফেলে চলে যায়।

পরে কাশেম মিয়ার চিৎকারে পুকুরের পাহারাদার রহিছ মিয়া এগিয়ে এসে কাশেম মিয়ার হাত পা ও মুখের বাধন খুলে দেয়। বাধন মুক্ত হয়ে কাশেম মিয়া ষ্টেশনে গিয়ে জীবনকে দেখতে পেয়ে রিক্সার মহাজন হীরা মিয়াকে ঘটনা খুলে বলে। হীরা মিয়া তখন জীবনকে চাপ দিলে ভোর ছয়টার দিকে ছিনিয়ে নেয়া রিক্সাটিকে জগন্নাথপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করে ফেরৎ দেয়। ছিনতাইকারি জীবন ও রিক্সার মহাজন হীরা মিয়ার বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় এ নিয়ে আর পুলিশের কাছে অভিযোগ করেনি। রহিছ মিয়া বলেন, আমি এই পুকুরের পাহারাদার। কাশেম মিয়া হামাগুড়ি দিয়ে আমার কাছে এসে বলে জীবন আমাকে বেধে আমার রিক্সা নিয়ে গেছে।

ভাই আমার বাধন খুলে দাও। পরে আমি তার বাধন খুলে দিলে সে ষ্টেশনের দিকে চলে যায়। মহাজন হীরা বলেন, খবর শুনে আমি ভোর রাতেই জীবনকে ষ্টেনে পেয়ে তাকে আটক করে কিছু মারধর করলে ছিনিয়ে নেয়া রিক্সাটি সে জগন্নাথপুর গ্রাম থেকে এনে দেয়। বেশ কিছু দিন যাবত জীবনসহ আরো কয়েকজন মিলে রাতে এ রাস্তায় চুরি ছিনতাই ঘটিয়ে যাচ্ছে। তার ভয়ে রিক্সা চালকরা রাতে রিক্সা চালাতে চায়না। এলাকাবাসি মুকুল মিয়া বলেন, কাশেম মিয়ার কাছ থেকে ঘটনা শোনে আমরা ভোর বেলায় রেল ষ্টেশন থেকে জীবনকে আটক করি।

পরে আমাদের চাপের মুখে জীবন রিক্সা ও ব্যাটারী ফেরৎ দেয়। এ বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ফেরদাউস আহাম্মদ বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দিলে ভাল হত। এ রাস্তায় ছিনতাই রোধ করতে তারপরও আমরা জীবনকে গ্রেফতারের চেষ্টা করব। তার নামে রেলওয়ে থানায় আগেও একটি ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে।