ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধন আইন ফেব্রুয়ারিতেই কার্যকর হচ্ছে

নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের পক্ষে-বিপক্ষে উত্তাল ভারতের রাজপথ। আইনটি বাতিলের দাবিতে হায়দ্রাবাদের রাস্তায় নামেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ। অচিরেই বিতর্কিত এ আইন বাতিল করা না হলে, আরও বড় পরিসরে আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হয়।ভারতজুড়ে এমন প্রতিবাদ আগে কখনও হয়নি উল্লেখ করে, বিজেপিকে দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিরোধীদল কংগ্রেস। তবে ফেব্রুয়ারি থেকেই আইনটির বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা করছে নরেন্দ্র মোদি প্রশাসন। আসামে আইনটির পক্ষে রাস্তায় নামেন এক লাখের বেশি বিজেপি কর্মী।

কানায় কানায় পূর্ণ রাজপথ। ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাজধানী হায়দ্রাবাদে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন রদের দাবিতে রাস্তায় নামেন লাখ লাখ মানুষ।

মুসলমানরা বলেন, এই দেশ সবার। সবাইকে থাকতে দিতে হবে। এ আইন বাস্তবায়ন করলে মুসলিমরা বিপদে পড়বেন।

হায়দ্রাবাদে এমন বিক্ষোভের মধ্যেই আসামে উল্টো আইনটির পক্ষে মহাসমাবেশ ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজেপির কর্মীরা এতে অংশ নেন। দলটির নেতারা যেকোনো মূল্যে ভারতজুড়ে আইনটি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন।

বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা বলেন, আফগানিস্তানে ৫০ হাজার শিখ ছিলেন একটা সময়, এখন মাত্র ২ হাজার রয়েছেন অবশিষ্ট। পাকিস্তানে হিন্দু, জৈন, খ্রিস্টান, বৌদ্ধদের সংখ্যা ছিল ২৩ শতাংশ, যা ৩ শতাংশে নেমেছে। বাংলাদেশেও হিন্দু-খ্রিস্টানদের জনসংখ্যা দিন দিন কমছে। তারা এখন কোথায় গেছে?

জ্যেষ্ঠ বিজেপি নেতাদের সূত্রে গণমাধ্যম জানায়, আপাতত ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন এ আইনটি কার্যকর করতে চাইছে নরেন্দ্র মোদি প্রশাসন। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই ইঙ্গিতও দিয়েছেন। আর এটি বাস্তবায়ন না করা রাজ্যগুলোতে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের বিজেপি নেতা উদয় প্রতাপ সিং।

এদিকে বিতর্কিত আইনটির সমর্থনে লন্ডনেও মানববন্ধন করেন বিজেপিমনা ভারতীয়রা।

তারা বলেন, নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ ভালো কাজ করেছেন আইনটি প্রণয়ন করে। এতে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হওয়া মানুষজন ভারতে বৈধভাবে থাকতে পারবেন। এটা বিশ্বকে জানাতেই রাস্তায় নেমেছি।

আইন অনুযায়ী ভারতে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরও বের করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে বিজেপি। জম্মু-কাশ্মীরে অনেক রোহিঙ্গা থাকেন বলে ইতোমধ্যে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

এদিকে, তামিলনাড়ুতে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ৩০০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীরা ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ পুলিশের।

পুরো দেশ এ আইনটির বিরোধিতা করছে বলে মন্তব্য কংগ্রেসের। দলটির শীর্ষ নেতা গুলাম নবী আজাদ বলেন, ভারতে এতো বড় আন্দোলন আগে কখনও হয়নি, অথচ নরেন্দ্র মোদি সরকার এটিকে তোয়াক্কাই করছে না। দাবি মেনে, আইনটি খারিজ করে দিতে বিজেপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।