বেসামাল সবজি বাজার: দামের ভারে নুঁয়ে পড়েছে শার্শার নিম্ন আয়ের মানুষ

জসিম উদ্দিন, বেনাপোল প্রতিনিধিঃ মহামারি করোনাকালীন সময়ের মধ্যে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে যশোরের শার্শায় সবজি চাষে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় বাজারে সব ধরনের সবজির দাম দ্বিগুন বৃদ্ধি পেয়েছে।

সেই সাথে পাল্লা দিয়ে কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৭০ টাকা বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। গত তিন থেকে চার দিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম ২শত টাকা ছাঁড়িয়ে গেছে। এমতাবস্থায় সবজির মূল্য বৃদ্ধির ভারে নুঁয়ে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ।

চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সবজির সরবরাহ থাকলেও নিত্য প্রয়োজনীয় এসব সবজির দাম আকাশ ছোঁয়া হওয়ায় এবং ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে ইচ্ছামাফিক দাম বৃদ্ধি করে ভোক্তাদের পকেট কাটছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে শার্শা উপজেলার বিভিন্ন পাইকারী বাজারে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ২শত টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, খিরা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ঝিঙে ৫০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, আলু ৩৫ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, উচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা, করোল্লা ৮০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, কাকরল ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

তিন থেকে চার দিন আগে কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, খিরই ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, ঝিঙে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা, পটল ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৩২ টাকা, আলু ৩৫ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, উচ্ছে ৬০ টাকা, করোল্লা ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, কাকরল ৫০ থেকে ৫২ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫ থেকে ২৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল।

বাজারে আসা ক্রেতা আলি হোসেন বলেন, করেনাকালীন সময়ে কাঁচা মরিচের পাশাপাশি সব ধরনের সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কেজিপ্রতি প্রকার ভেদে অন্তত ৫ থেকে ৩০ টাকা এবং কাঁচা মরিচের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে লাগামহীন দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, করোনাকালীন সময় থেকে অধিকাংশ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। যার ফলে ধার দেনা আর চরম ঘাটতির কারনে আমরা নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষেরা পড়েছি বিপাকে। দাম যাতে শিগগির নিয়ন্ত্রণে আসে এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

বাজারে আসা ক্রেতা নুর হোসেন বলেন, সবজির বাজার বেসামাল অবস্থা। করোনার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় তরিতরকারির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা খুবই বিপাকে পড়েছি। বাজার দর মনিটরিং যদি আরো জোরদার করা হয় তাহলে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
বাজারেরহোটেল মালিকরা বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবধরণের সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল বলেন, দেশে এবার বৃষ্টিপাতের পরিমান বেশি। এতে সবজি সহ তরিতরকারির ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ জন্য ব্যবসায়িরা বাইরের জেলা থেকে এসব সবজি ও ঝাল ক্রয় করে আনছে। পরিবহন ভাড়া বেশি হওয়ার কারনে সবজি ও ঝালের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা প্রাকৃতিক ও সাময়ীক সমস্যা। আশা করছি দ্রুত বাজার স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
প্রেকরঃ জসিম উদ্দিন, বেনাপোল প্রতিনিধি, মোবাঃ ০১৯৬৩৫৯৫০৯১, তাং ২৬/০৮/২০২০ ইং