বেলকুচিতে মসজিদের সহ সভাপতি ইমাম সেজে টাকা উত্তোলন করার অভিযোগ

পারভেজ আলী, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে সহ সভাপতি মসজিদের ইমাম সেজে টাকা উত্তোলন করার অভিযোগ তুলেছে স্থানীয়রা । গত ৭ মে (রবিবার) বেলকুচি উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক করোনা কালীন সময়ের জন্য সরকারী সহায়তা হিসাবে মসজিদের ইমামদের ৫ হাজার টাকা অনুদান তুলে দেওয়া হয়। এই টাকা মজিদের ইমামের হাতে বুঝে দেওয়ার কথা থাকলেও উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বওড়া মধ্য পাড়া মসজিদে খায়ের নামিকে এক মসজিদের পরিচালানা পর্ষদের সহ সভাপতি হাফেজ জেলহজের বিরুদ্ধে ইমাম সেজে উপজেলা প্রশাসন থেকে টাকা বুঝে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ।

স্থানীয়রা জানায়, আমাদের মসজিদের সহ সভাপতি হাফেজ জেলহজ ইমাম সেজে টাকা তুলেছে উপজেলা থেকে। মসজিদের ইমামের নাম হাবিবুল্লাহ। এই টাকাটা মসজিদের ইমাম হাবিবুল্লাহ’র হাতে তুলে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সহ সভাপতি জালিয়াতি করে নিজেকে ইমাম সাজিয়ে টাকা নিয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে ঐ জালিয়াতের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি। অত্র মসজিদের পেশ ইমাম হাবীবুল্লাহ প্রতিবেদককে জানান, আমি টাকা উত্তোলনের বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে আমাকে গত সোমবার মসজিদের সহ সভাপতি হাফেজ জেলহজ ৩ হাজার টাকা দিয়েছেন।

মসজিদ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হাজী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমি নাম মাত্র মসজিদের সভাপতি। মসজিদের আয় ব্যয় হিসাবের কিছুই জানি না। তারা কোথা থেকে টাকা পেল না পেল আমাকে এ বিষয়ে কোনদিন কিছু বলেনি। আমি এই টাকাটা উত্তোলন কে করলো আর কোন খাতে ব্যয় করেছে এ সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারবো না। তিনি আরও বলেন মসজিদের যে সহ সভাপতি রয়েছেন সে নিজের মনগড়া ভাবে মসজিদের আয় ব্যয়ের হিসাব করেন। টাকা উত্তোলনের বিষয়ে শিকার করে ঐ মসজিদের সহ সভাপতি হাফেজ জেলহজ প্রতিবেদকের কাছে বলেন, আমি টাকাটা উত্তোলন করেছি।

এটা আমার ভূল হয়েছে। তবে টাকা মসজিদের ইমামকে দিয়েছি। এই বিষয়ে আমি অনেকের কথা শুনেছি। বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত ই জাহান জানান, আমরা সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমামদের হাতে টাকা তুলে দিয়েছি। যদি কেউ ইমাম সেজে টাকা বুঝে নেয় তাহলে সে অবশ্যই অপরাধ করেছে। আমি এ বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো। যদি ঐ মসজিদের সহ সভাপতি হাফেজ জেলহজের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হয় তাহলে তাকে তার পদ থেকে অব্যহতির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।