টাকার বিনিময়ে দূর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ,মহিলা ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ

পারভেজ আলী, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় ২০১৯- ২০২০ অর্থ বছরে দূর্যোগ সহনীয় ৩৬ টি বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্প আসে। যা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হতদরিদ্র ও ভুমিহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি নির্মানে প্রতি বাড়ির বিপরীতে দুই লাখ ৯৯ হাজার ৮৬০ টাকা বরাদ্ধ দেয় সরকার।

এই অর্থে দুই কক্ষ বিশিষ্ট শোবার ঘর, একটি রান্নার ঘর ও কড়িডোরসহ বাথরুম নির্মাণ করা হয়। সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের অধিনে এক একজন সুবিধাভোগীর বাড়ি নির্মানে একটি করে প্রকল্প গ্রহন করা হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা প্রকল্পের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

এমন প্রকল্পে মোটা অংকের টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বওড়া গ্রামের সুবিধা ভোগী ছাওফা খাতুন অত্র ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য সোনাবানুর বিরুদ্ধে । ছাওফা খাতুন জানান, সরকারি অর্থে মানবিক সহায়তায় ঘর পেলেও স্হানীয় মহিলা ইউপি সদস্য আমার কাছ থেকে ঘরবাবদ প্রথমে ৪৫ হাজার টাকা এবং পরে ৫০ টাকা হাজার টাকা নেয়। এতগুলো টাকা দেওয়ার পরেও আমার কাছ থেকে সে আরো টাকা দাবী করছেন ।

টাকাগুলো বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান থেকে ঋন করে দিয়েছি। আমি আর টাকা কোথায় পাব? স্থানীয়রা জানান, মহিলা ইউপি সদস্য সোনাভানু বিভিন্ন লোকেক ঘর দেওয়ার কথা বলে ঘরের জন্য টাকা চাচ্ছে। ছাওফার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। তাহলে দরিদ্ররা কি করবে? শুনেছি সরকার হত দরিদ্রদের জন্য ঘর বাজেট করেছে। কিন্তু সেই ঘর এখন টাকা দিয়ে নিতে হয়। টাকা দিয়ে যদি ঘর নিতে হয় তাহলে তো দরিদ্র মানুষরা এই সুবিধা পাবে না। বিষয়টা সম্পর্কে কৃর্তপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া দরকার।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য সোনাভানুর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার সাথে কোন যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ঐ ইউপি সদস্যের স্বামীর আব্দুর রহমান জানান, ঘর দেওয়ার দায়িত্ব তো চেয়ারম্যান সাহেবের। আর আমার স্ত্রী কারো কাছ থেকে টাকা নেয়নি। এদিকে অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান লাজুক বিশ্বাস জানান, আমি দূর্যোগ সহনীয় যে ঘর বরাদ্দ পেয়েছি তা সকল ইউপি সদস্যদের মধ্যে বন্টন করে দিয়েছি। যদি কেউ ঘর বাবদ টাকা নিয়ে থাকে তার দায়ভার সে নেবে।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত ই জাহান প্রতিবেদককে জানান, আমার কাছে এপর্যন্ত ঘরের ব্যাপারে টাকা নিয়েছে এমন কোন অভিযোগ আসেনি। তবে কোন সুবিধাভোগীর কাছ থেকে কেউ যদি টাকা নিয়ে থাকে সে বিষয়ে যদি লিখিত অভিযোগ আসে। তাহলে তা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পারভেজ আলী বেলকুচি,সিরাজগঞ্জ