বেরিয়ে এলো পাঠাও সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহর হত্যার রহস্য

রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাও-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহর খুনিকে গ্রেপ্তার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ। হত্যাকারীর নাম টাইরেস ডেভন হাসপিল (২১)। শুক্রবার ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ফাহিম সালেহর প্রতিষ্ঠিত অ্যাডভেঞ্চার ক্যাপিটেলে কাজ করতেন।

প্রায় এক সপ্তাহ ধরেই ফাহিম সালেহর খোঁজ পাচ্ছিলেন না স্বজনরা। পরে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে ফাহিমের অ্যাপার্টমেন্টে যান তার বোন। দেখেন ভাইয়ের মরদেহ। তার ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।

নিউইয়র্ক পোস্টর প্রতিবেদনে বলা হয়, ফাহিম সালেহর চীফ অফ স্টাফ হিসেবে কাজ করতেন টাইরেস। অ্যাডভেঞ্চার ক্যাপিটেলর সবকিছু দেখভালের সুযোগ নিয়ে টাইরেস প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রায় ১ লাখ ডলার সরিয়ে ফেলে, যেটি পরে বুঝতে পারেন ফাহিম। তবে ব্যাপারটি পুলিশকে না জানিয়ে তাকে সুযোগ দেন সেটি ফিরিয়ে দিতে। আর ওই সময় থেকেই ফাহিম সালেহকে হত্যার পরিকল্পনা করেন টাইরেস ডেভন হাসপিল।

সোমবার ফাহিম সালেহর সঙ্গে তার অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে প্রথমেই তাকে অচেতন করে মারাত্মকভাবে ছুরিকাঘাত করেন টাইরেস। পরদিন আবার ওই ফ্ল্যাটে যেয়ে হত্যাকাণ্ডের সব আলামত মুছে ফেলতে ফাহিম সালেহর শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে তা ব্যাগে ভরে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেদিন কেউ সেই ফ্ল্যাটে এসে পড়ায় পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ না করেই পালিয়ে যান হত্যাকারী।

মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন এলাকার নিজ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ফাহিম সালেহর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নজরদারি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজে ফাহিমকে সর্বশেষ সোমবার অ্যাপার্টমেন্টের লিফটে উঠতে দেখা গেছে। তার সঙ্গে মাথায় হ্যাট, হাতে গ্লাভস ও মুখে মাস্ক পরিহিত তারই সাবেক এই কর্মী নিজেকে আড়াল করে লিফটে ওঠেন। লিফটটি সোজা তার অ্যাপার্টমেন্ট ইউনিটে গিয়ে থেমেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকারীর গত কয়েক দিনের কেনাকাটার রেকর্ড যাচাই করে তারা দেখেছেন তিনি একটি ইলেক্ট্রিক করাতও কিনেছিলেন কিছুদিন আগে।

এদিকে প্রতিভাবান এই তরুণ উদ্যোক্তাকে হত্যার ঘটনায় হাসপিলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার তার বিরুদ্ধে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য জানায়।

মামলাটি তদন্তের এনওয়াইপিডির হেট ক্রাইম টাস্কফোর্সকে যুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, ফাহিমকে সোমবার হত্যা করা হয়েছে। এর একদিন পর মঙ্গলবার তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, হাসপিলের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ম্যানহাটনের ওয়েস্ট ২৩ স্ট্রিটের একটি দোকান থেকে অপরাধস্থল পরিচ্ছন্ন করার স্যানিটাইজার সামগ্রী ক্রয় করা হয়েছে। ফাহিমের লাশের পাশে যে টিজার পাওয়া গেছে সেটির সিরিয়াল নাম্বারও খুনি হিসেবে হাসপিলকেই নির্দেশ করে।

বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফাহিমের শরীরে বেশ কয়েকটি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘাড় ও কাঁধে ছুরির আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

গত বছর ম্যানহাটনের এই বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কেনেন ফাহিম সালেহ। শুরুতে পাঠাওয়ের সাথে থাকলেও বর্তমানে রাইড শেয়ারিং কোম্পানিটির সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই। পাঠাও ছাড়া নাইজেরিয়া এবং কলম্বিয়াতেও দুটি রাইড শেয়ারিং কোম্পানি আছে ৩৩ বছর বয়সী এই তরুণের।