বেনাপোল বন্দরে শুল্কফাঁকি: দুই সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স বাতিল

 জসিম উদ্দিন, বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোরের বেনাপোল স্থল বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি করে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে দুই সিএন্ড এফ এজেন্ট লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। রবিবার বিকালে বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার উত্তম চাকমা লাইসেন্স বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বাতিল লাইসেন্স হলো, পুটখালী ইউপি চেয়ারম্যানের মালিকাধীন রিমু এন্টারপ্রাইজ ও আব্দুর রশিদের মালিকাধীন সানি এন্টারপ্রাইজ।

বন্দর সুত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত দুই সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট তাদের লাইসেন্সের মাধ্যমে মিথ্যা ঘোষণায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বন্দর থেকে আমদানি পণ্য ছাড় করার চেষ্টা করে। এসময় গোঁপন সংবাদে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্য চালান আটক করে। পরে কাগজ পত্র যাচায় করে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ প্রমানিত হয়। এসময় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসাবে শুল্কফঁকির অর্থ আদায় ও লাইসেন্স বাতিল করা হয়।

এদিকে বেনাপোল কাস্টম হাউজে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানির সঙ্গে জড়িত আরো ১০ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহনের সুপারিশ করেছে এনবিআর। ইতি মধ্যে মোংলা কাস্টমসের কমিশনার হোসেন আহম্মদের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি বিষয়টি অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছেন। অভিযুক্ত সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স হলো,মেসাস শামছুর রহমান, সিঅ্যান্ডএফ রাতুল ইন্টারন্যাশনাল, মেসাস জয়েন্ট এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স অর্ণব এন্টারপ্রাইজ, সোহান ট্রেড, লিটন এন্টারপ্রাইজ, বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ, মিলিনিয়াম এন্টার প্রাইজ,আনুষা ইমপ্লেক্স ও জামান ট্রেডার্স।

জানা যায়, বেনাপোল বন্দরের এক শ্রেনীর ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ছত্রছাঁয়ায় কাস্টমস ও বন্দরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ম্যানেজ করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসছে। এতে সরকার শত শত কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। অপরদিকে কালো টাকার পাহাড় গড়ছে এসব ব্যবসায়ীরা। গত তিন বছরে বেনাপোল বন্দর থেকে সরকার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ হাজার ১৭০ কোটি টাকা রাজস্ব কম আদায় হয়েছে।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক(ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার বলেন, শুল্ক ফাঁকি রোধে কাস্টমসের পাশাপাশি তারাও সতর্ক আছেন। অবৈধ ভাবে পণ্য আমদানির কোন তথ্য পেলে তারা কাস্টমসকে অবহিত করে থাকেন। বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার আজিজুর রহমান জানান, শুল্ক ফাঁকিদাতারা যত বড় প্রভাবশালী হোক না কেন তাদের কোন ছাড় নাই। অভিযুক্তদের কালো তালিকা করে তদন্ত চলছে। অপরাধ প্রমানিত হলে খুব দ্রুত তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।