বুড়িচংয়ে রেললাইনে পাওয়া গেল নবজাতক, নিয়ে গেলেন মাছ ব্যবসায়ি

এম এ বাশার, কুুুমিল্লা (উত্তর) জেলা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার বুড়িচংয়ের খুব ভোরে পাওয়া গেছে এক নবজাতক শিশু। শিশুটির নাম রাখা হয় জুনায়েদ। খুব ভোরে শিশুটির কান্না শুনতে পেয়ে এবং নবজাতককে পড়ে থাকতে দেখেন গ্রামের এক মাছ ব্যবসায়ী। পরে তাকে গামছা দিয়ে মুড়িয়ে পরম মমতায় বাড়িতে নিয়ে যান। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ভোরে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল গ্রামের রেললাইন ও কালিকাপুর -বুড়িচং থানা সড়কের পাশে এ নবজাতককে পাওয়া যায়।

ধারণা করা হচ্ছে, জন্মের পরপরই তাকে কোনো মা এখানে ফেলে রেখে যান।

স্থানীয় সুত্র জানায়, শুক্রবার ভোর ৫টায় বাকশীমূল গ্রামের গায়েবাজার সংলগ্নে মোঃ দেলোয়ার হোসেন (মাছ ব্যবসায়ী) নামের এক ব্যক্তি রিক্সা দিয়ে ভোরে বাজারে যাওয়ার পথে রেললাইনে পাশে নবজাতকের কান্না শুনতে পান। ধারনা করেন তার আশপাশ থেকে শিশুর কান্নার শব্দ আসছে। তাই তিনি রিক্সা থামিয়ে কাছে যান তিনি। গিয়ে দেখেন নবজাতক ছেলে শিশুটি কাপড় দিয়ে মুড়ানো অবস্থায় পড়ে আছে। হাত-পা নাড়াচ্ছে, কাঁদছে। রেললাইনে পড়ে থাকতে দেখে দেলোয়ার হোসেনের চোখ ছল ছল করে ওঠলো।

পরম মমতায় তিনি শিশুটিকে কোলে তুলে নেন। বাড়িতে নিয়ে গিয়ে শিশুটির সেবা-শুশ্রুষা করেন। রেললাইনে শিশু পাওয়ার খবরে এলাকার শত শত মানুষ দেলোয়ারের বাড়িতে ভিড় করতে থাকেন। বাড়িতে নেয়ার পর থেকেই ফুটফুটে মায়াবী শিশুটি স্নেহ কাড়ছে সবার। ঠাঁই পাচ্ছে এক কোল থেকে আরেক কোলে। অনেকেই অনেক ধরণের কথাবার্তা বলতেও দেখা গেছে।

দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো: আব্দুল জলিল বাবার কাছে আবদার জানান শিশুটিকে সে লালন পালন করবেন এবং তিনি দাদা হিসেবে পরিচয়ে থাকবেন। তাই বাবা খুশি হয়ে ছেলে জলিলকে দিয়ে দেন কারণ তার ছেলে সন্তান নাই।

আব্দুল জলিল জানান, আমার একটি মাত্র মেয়ে সন্তান আছে, আরেকটি ছেলে সন্তান প্রয়োজন তাই তিনি তার মেয়ে সন্তানের মতো আদর যত্নে বড় করতে চান বাবার পরিচয়ে। নবজাতক ছেলে শিশুটির নাম রাখা হয় জুনায়েদ।

এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরুল হাসান বলেন, তারা যদি নবজাতক লালনপালন করতে চায় তাহলে সমাজসেবক অফিস এবং থানায় অবগত করে লালনপালন করিতে পারবে”।

এ বিষয়ে বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মোজাম্মেল হক পিপিএম জানান, আমরা এই বিষয়টি শুনেছি । বর্তমানে তাদের আশ্রয়ে থাকুক, যদি নবজাতকের বিষয়ে পিতা- মাতার সন্ধান পাওয়া যায় তাহলে প্রয়োজনী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।