বিস্ফোরণের ঘটনায় মসজিদ কমিটি ও তিতাসকে দুষছেন স্থানীয়রা

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও হতাহতের ঘটনায় মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও তিতাস কর্তৃপক্ষের অবহেলাকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, কমিটির নেতারা আগে থেকে ব্যবস্থা নিলে এতোগুলো মানুষের প্রাণহানি হতো না। তবে মসজিদ কমিটির সভাপতি দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি জানালেন, তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করা হবে।

স্বজনদের কান্না আর আহাজারি বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। ঢাকা মেডিকেলের শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে মৃত্যুর সাথে লড়ছেন দগ্ধ চৌদ্দজন। বাড়িতে চিকিৎসাধীন আরও ছয়জন। নিহত ও চিকিৎসাধীন সবার পরিবারে চলছে শোকের মাতম। ভবিষ্যৎ জীবন নিয়েও রয়েছে নানা সংশয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী আপনজনকে হারিয়ে কষ্ট আর হতাশায় ভুগছেন স্বজনরা। কীভাবে চলবে তাদের সংসার? নানা দোটানার মধ্য দিয়ে দিন কাটছে তাদের।

পারুল আক্তার ও নুরুদ্দিন, নিহত কলেজছাত্র দুই ভাই সাব্বির ও জুবায়েরের মা-বাবা। তবে এ বিস্ফোরণের ঘটনার জন্য মসজিদ কমিটি ও তিতাসের অবহেলাসহ তাদের দায়িত্বহীনতাকেই দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলছেন, গ্যাসের লিকেজের বিষয়টি আগে থেকে জেনেও এর ব্যবস্থা না নেয়ায় এতোগুলো মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

সিটি কর্পোরেশনের স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরও জানালেন, দীর্ঘ নয় মাস ধরে লিকেজ থেকে গ্যাস নির্গত হলেও মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে কাউকে কিছু জানানো হয়নি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি তাদের দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন তিতাস কর্তৃপক্ষের ওপর। বিষয়টি আমলে নিয়ে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি জানিয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদের মামলার আসামিভুক্ত করে গ্রেফতার করা হবে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) রাতে এশার নামাজ চলাকালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয় নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে। আগুনে দগ্ধ ৩৮ জনকে রাতেই ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেলের শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিটিউটে। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাসের লিকেজ থেকেই এ বিস্ফোরণ হয়েছে। এরপর থেকেই দায়ী করা হচ্ছে মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও তিতাস কর্তৃপক্ষকে।