বিশ্রামাগার ও কেন্টিন না থাকায় চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে

মোহহম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধি: ‘আনন্দ ভ্রমণ আর নিরাপদ জীবন’ বাংলাদেশ রেলওয়ের যোগাযোগ ব্যবস্হা । কিন্তু দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের জন্য বিশ্রামাগার ও কেন্টিন না থাকায় যেমনি দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তেমনি লোকবলের অভাবে ভেঙ্গে পড়ছে চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশনের কার্যক্রম।

চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রেলপথের চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশনের নানা সমস্যায় জর্জরিত। এতে করে প্রতিনিয়ত যাত্রীরা পোহাচ্ছে চরম দুর্ভোগ। জনবল সংকটে এখানকার যাত্রী সেবার মান দিন দিন ভেঙ্গে পড়ছে। সরেজমিনে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, বিগত কয়েক বছর পূর্বে চাঁদপুর-লাকসাম সবকটি স্টেশন আধুনিকায়ন করা হয়েছে। যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশনটি বিভিন্ন সমস্যায় জর্জড়িত হয়ায় দূর্ভোগ যাত্রী সাধারণের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যাত্রীদের বসার স্থান হিসেবে কিছু লোহার সেটিং চেয়ার দিলেও, তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে যাত্রীরা বসার জায়গা না পেয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আগত রোগীসহ অন্যান্য যাত্রীদের ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে ও প্লাটফর্মের মেঝেতে বসে থাকতে দেখা যায়। চাঁদপুর থেকে প্রতিদিন এ স্টেশনের উপর দিয়ে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর মেঘনা এক্সপ্রেস ও সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেন এবং কুমিল্লা ও লাকসামগামী কমিউটার ডেম্যু ট্রেন চলাচল করতো। বৈশ্বিক করোনা মহামারির কারনে এখন শুধু মাত্র আন্তঃ নগর মেঘনা ট্রেন চলাচল করছে।

এ স্টেশন থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার চট্টগ্রাম যাতায়াত করে। কিন্তু চাঁদপুর ররেলওয়ে সস্টেশনে যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান ভুক্তভোগী যাত্রী সাধারণ। তাছাড়া চাঁদপুর বড়স্টেশন হচ্ছে পর্যটন এলাকা এখানে অনেক ভ্রমন পিপাসুরা আসে ভ্রমনের জন্য। তারা ভাড়া ভিত্তিক রেস্ট হাউজ চায়। কিন্তু এখানে রেলওয়ের অফিসারদের জন্য একটি মাত্র রেস্ট হাউজ আছে।

বারতি কোন রেস্ট হাউজ নেই। চাঁদপুরে যদি চট্টগ্রামের মতো রেস্ট হাউজ এবং মানসম্মত রেলওয়ের ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে যেমন যাত্রীদের সুবিধা হবে অন্যদিকে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। বরিশাল থেকে আসা যাত্রী রমিজউদ্দন বলেন, লঞ্চে করে পরিবার ও নাতি নাতনি নিয়া চাঁনপুর আইছি চিটাগাংএ যাওনের লাই। ট্রেন ছড়বো বেয়াইন রাইত ৫টায়। ট্রেন ছারনে আগ পর্যন্ত বহনের ব্যবস্থা থাকলে অনেকটা ভালা হইত। কিন্তু বহনের জায়গা না থাকায় স্টেশনে ফ্লাটফর্মে ঘুরতাছি।

চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সোয়াইবুল সিকদার জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের ১৭টি ভিপাটমেন্ট রয়েছে। তারমধ্যে একটি হচ্ছে ট্রাফিক যার দায়িত্বে রয়েছি আমি। আমার এ বিভাগে ৭৬ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ১৭জন। এ সীমিত জনবল দিয়ে রেলওয়ে ট্রাফিক বিভাগ পরিচালনা করতে হিমসিম খেতে হয়।

তারপরও সেবা দিয়ে যাচ্ছি। যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নতুন ভবন করে দিয়েছে। সেখানে যাত্রীদের জন্য ২টি বিশ্রামগার রয়েছে। যা পর্যাপ্ত নয়। চাঁদপুর-লাকসাম-কুমিল্লা-চট্টগ্রাম রুটে ৪টি ট্রেন প্রতিদিন চলাচল করতো। বর্তমান করোনার কারণে চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে মেঘনা এক্সপ্রেস চলাচল করে। যা ছড়ার সময় ভোর ৫ টায়।

তিনি বলেন, চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন প্রথম সাড়ির একটি স্টেশন। এখান দিয়ে বরিশাল তথা সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল, চাঁদপুর, রায়পুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, শরিয়তপুর, মাদারীপুর’সহ বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজন যাতায়াত করে। স্বাভাবিক ভাবে প্রতিদিন চাঁদপুর স্টেশন দিয়ে কয়েক হাজার লোকজন আসা-যাওয়া করে।

কিন্তু দুঃখের বিষয় স্বল্প লোকবল দিয়ে আমাদের সেবা দলেও এস্টেশনে নেই কোন খাবার হোটেল এবং যাত্রীদের বিশ্রামের পর্যাপ্ত স্থান। দুটি বিশ্রামাগার থাকলেও তাতে যাত্রী সংকুলান হচ্ছে না।