বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ৫০ হাজার বৃক্ষ রোপনের সুভ সুচনা করলেন শার্শার উদ্ভাবক মিজান

 জসিম উদ্দিন, বেনাপোল প্রতিনিধি : লাগালে বৃক্ষ সবাই থাকব সুস্থ। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২০ উপলক্ষে যশোরের শার্শা উপজেলার কৃতি সন্তান দেশসেরা উদ্ভাবক মিজান পরিবেশ রক্ষাকারী বৃক্ষ রোপণ ও বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ করেছেন। উপজেলার নাভারণে বুরুজ বাগান পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে গেটের দুই ধারে বৃক্ষরোপন ও জনসাধারণের মাঝে বিভিন্ন প্রকার গাছের চারা বিতরণ করে পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর কর্মসুচীর সুভ সুচনা করেন ৷

উদ্ভাবক মিজান শুধু বিশ্ব পরিবেশ দিবসে নয়, তিনি ২০০৫ সাল থেকেই বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিনামূল্যে চারা রোপণ করে আসছেন৷ তারই ধারাবাহিকতায় পরিবেশের উপর একনিষ্ঠভাবে কাজ করাই ৭টি জাতীয় পরিবেশ সনদ ও পরিবেশ পদক পেয়েছেন তিনি। উদ্ভাবক মিজান বলেন, বাংলাদেশের চারটি বিভাগ ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনার বিভিন্ন অঞ্চলেই বৃক্ষ রোপন ও বিতরণ করেছি ৷ এছাড়াও আমার হাতে লাগালো আছে শতশত তাঁল গাছ৷ চলতি বছরে আমি ৫০ হাজার বৃক্ষ রোপন ও বিতরণ করবো এই চিন্তা ভাবনা করেছি৷ এতে করে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সমাজের সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

সেই সাথে সব শ্রেণি পেশার মানুষকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে আহব্বান জানাচ্ছি। এক দিকে, ভূগর্ভস্থ জলস্তরের হ্রাস, অন্য দিকে সমুদ্রের জলতলের উচ্চতা ও উষ্ণতাবৃদ্ধি বিপর্যয়ে সামনে নিয়ে আসছে গোটা জলচক্রকেই। তার প্রভাবে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটছে। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা ক্রমশ বাড়ছে। পরিবেশের অন্য সমস্যাগুলি মানুষের প্রাকৃতিক দূষণ কমানোর নানা প্রচেষ্টার মূলে আঘাত হানছে। আমপানের মতো বিপর্যয়ের জেরে এক দিকে, যেমন, দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা গাছপালাশূন্য হয়ে পড়েছে, তেমনই প্রাণ হারিয়েছে বহু পশুপাখিও।

ফলে, প্রকৃতির চক্রগুলি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে না গেলে সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রাচীনকালে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকে মানুষ অন্যতম কর্তব্য বলেই বিবেচনা করত। ফলে, আলাদা করে পরিবেশ বাঁচানোর আন্দোলনের দরকার হয়নি। পরে, প্রাকৃতিক পরিবর্তনের হার এত তীব্র হয়েছে যে, তাকে রক্ষা করার ডাক দিয়ে বারবার পথে নামতে হয়েছে মানুষকে। তাই আসুন নিজে সচেতন হয়ে অন্যকে সচেতন করে মৃত্যুর আগমুহূর্তেও একটি বৃক্ষ রোপন করি।

পরিবেশদূষণের উল্লেখযোগ্য কারণের মধ্যে রয়েছে অত্যাধিক হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নির্বিচারে বৃক্ষনিধন ও বনভূমি উজাড়, প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যবহার, দ্রুত শিল্পায়ন, সার ও কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, শিল্প-কলকারখানার বর্জ্য, গাড়ির বিষাক্ত ধোঁয়া, ওজোন স্তরের ক্ষয়, অ্যাসিড বৃষ্টি, অপরিকল্পিত গৃহনির্মাণ, দারিদ্র্য, প্রসাধনসামগ্রী, প্লাস্টিক দ্রব্যের ব্যবহার ইত্যাদি।