বিপাকে শত বছরের পুরনো বরিশালের কসবা হাটের গরুর ব্যবসায়ীরা

প্রিন্স তালুকদার, বরিশাল প্রতিনিধি : করোনা সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকি থাকায় অনিস্চিত হয়ে হয়ে আছে বরিশালের গৌরনদীর শত বছরের পুরনো কসবার গরুর হাট। সংক্রমণ ঠেকাতে এই মুহূর্তে গরুর হাট থেকে সরে আসার কথা বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।এতে করে চরম বিপাকে পড়েছেন গৌরনদীর গরু ব্যবসায়ীরা।

করোনা সংক্রমণের মারাত্মক সময় পার করছে বরিশালসহ গোটা দেশ। সংক্রমিত রোগীর দিক থেকে রাজধানী ঢাকার পর কিছুটা প্রভাব পরেছে বরিশালের দিকে। ইতোমধ্যে সংক্রমণের সংখ্যা ২ হাজারের কাছাকাছি। আর মৃতের সংখ্যা ৩১।

এ অবস্থায় গৌরনদীতে স্থায়ী গরুর বাজার হিসেবে চিহ্নিতটরকীর কসবার গরুর হাটকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে নগরীতে বৈধভাবে ১২টি গরু হাট বসলেও পাড়া-মহল্লা ভিত্তিক বাড়তি বাজার ছিলো ৫০টিরও বেশি। কিন্তু এবার করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিধি নিষেধ থাকায় অস্থায়ী হাটের সংখ্যা কমিয়ে আনা হচ্ছে বলে জানাগেছে।

তবে হাট ইজরাদারা বলছেন, সামাজিক দুরুত্ব বা সরকার যেভাবে চাই সেইভাবে তারা হাট পরিচালনা করতে প্রস্তুত রয়েছে। এতে করে গরুর হাট বা ব্যবাসার সাথে যারা সংশ্লিষ্ট রয়েছেন তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন।

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রতি-বছর জমে উঠতে দেশের অন্যতম বৃহৎ কসবার এই গরুর হাটি।গৌরনদী পৌর এলাকার এই হাট শত বছরের পুরনো। হাটের কাছেই মহাসড়ক ও আড়িয়াল খাঁর শাখা পালরদী নদীর অবস্থান হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে এই হাটের যোগাযোগ খুব সহজ। সেই সুযোগেই কসবার হাটে আসতো দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বড় পাইকারি ব্যবসায়ীরাও দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ট্রাক ভর্তি করে এই হাটে গরু আনেন বিক্রির জন্য। এছাড়া, খুচরা ও ছোট পাইকারি ব্যবসায়ীরাও গ্রাম ঘুরে কৃষকদের কাছ থেকে গরু নিয়ে আসেন এই গরু হাটে ।

স্থানীয় সূত্র জানাযায়, ‘আগে এ হাটে গরু কেনার জন্য ব্যবসায়ীরা ১৫/২০টি বালামি নৌকা (ট্রলার) নিয়ে আসতেন। প্রতিটি নৌকায় দেড় থেকে দুইশ গরু ভর্তি করে নিয়ে যেতেন ব্যবসায়ীরা। এখন তো অনেক জায়গায় গরুর হাট হয়ে গেছে। তাই আগের মতো এত গরু বিক্রি হয় না এই হাটে। তারপরও এই এলাকায় এত বড় হাট আর নেই।

এ বছর করোনা সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকি থাকায় অনিস্চিত হয়ে হয়ে আছে কসবার গরুর হাট।