বিদ্রোহীদের মদদ দেয়া মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে আ.লীগ

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেয়া বিদ্রোহী প্রার্থীদের মদদ দেয়া মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে এবার ব্যবস্থা নেবে আওয়ামী লীগ। এরিমধ্যে বিদ্রোহীদের পৃষ্ঠপোষকতা করা নেতাদের তালিকা এসেছে কেন্দ্রের হাতে। তদন্ত শেষে, আগামী কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

নৌকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাকে আর কখনোই মনোনয়ন দেবে না আওয়ামী লীগ। এমন কী, বিজয়ী হলেও নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে ভবিষ্যত নির্বাচনেও। পৌর নির্বাচনের আগেই ছিল দলের এমন কড়া বার্তা। তারপরও গেল তিন ধাপের পৌরনির্বাচনে ৩৫ থেকে ৪০ জন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলো আওয়ামী লীগে।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে নেয়া শুরু হয়েছে ব্যবস্থা। এবার ছাড় দেয়া হবেনা মদদ দেয়া মন্ত্রী-এমপিদেরও।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলির সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, এটি আমাদের কার্যকরি কমিটির সিদ্ধান্ত। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যেই কাজ করবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের পরবর্তী কার্যকরি কমিটির বৈঠকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, কোন বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে যেই সমর্থন এবং সহযোগিতা করবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের কার্যকরি কমিটির বৈঠকে খুব দ্রুতই পদক্ষেপ নেয়া হবে। আমরা কিছু রিপোর্ট পেয়েছি কারা কি সহযোগিতা করেছে। আমরা তদন্ত করছি। দলের সভায় এগুলো তুলে ধরা হবে তারপর সবাই বসে সিদ্ধান্ত নিবে।

এর আগে উপজেলা নির্বাচনে অর্ধশত বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক কয়েকজন মন্ত্রী এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও তা নেয়া হয়নি। নেতারা বলছেন, সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে অনেক সময় ধকল পোহাতে হয়।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলির সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, অনেকেই মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ পাঠায় না,অন্যান্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পাঠায়। কিন্তু আসলে তো তাদের মদদ দেয় মন্ত্রী-এমপিরাই। তাই তৃণমূল থেকে যদি ওইরকম ভাবে আমাদের অভিযোগ না দেয়, আমাদের কেন্দ্র থেকে সব খবর নেয়া সম্ভব হয় না।

এদিকে, মোট পড়া ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ না পাওয়ায় এবারের পৌর নির্বাচনে জামানত হারানো আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের কাছে পরাজয়ের কারণও জানতে চাইবে দলটি।