বিজিএমইএর কনটেইনারে বন্দরের স্টোররেন্ট ৪ মে পর্যন্ত ছাড়

 মোঃরাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের কনটেইনার জট নিরসনে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্টোর রেন্ট আগামী ৪ মে পর্যন্ত মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ওই দিনের মধ্যে আমদানি পণ্যভর্তি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ডেলিভারি নিলে আদায়যোগ্য স্টোর রেন্ট শতভাগ মাফ বা ছাড়যোগ্য হবে। এর আগে করোনাকালের মধ্য আসা সব কনটেইনারের ডেলিভারিতে স্টোর রেন্ট গত ২০ এপ্রিল পর্যন্ত শতভাগ ছাড় ঘোষণা করেছিলো কর্তৃপক্ষ।

বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বন্দরে প্রায় ১০ হাজার কনটেইনার রয়েছে ফেব্রিক্স বা কাপড় জাতীয় পণ্যের। ধারণা করা হচ্ছে এগুলো তৈরি পোশাক পণ্যের কাঁচামাল। সূত্র জানায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সাময়িকভাবে প্রায় সব আমদানি পণ্যের কনটেইনার স্ক্যানিং করে ১৯টি অফডকে নেওয়ার অনুমোদনের পর চার দিনে প্রায় ৪ হাজার কনটেইনার বন্দর থেকে সরেছে। বন্দরের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে ১৯টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে ধারণক্ষমতা ৭ হাজার ৮০০ টিইইউ’স (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক)। এসব ডিপোতে কনটেইনার ছিলো ৫৩ হাজার ৫৩০টি। অফডক মালিকদের সংগঠন বিকডার সচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, এক কনটেইনারে একাধিক প্রতিষ্ঠানের পণ্য ভর্তি বা এলসিএল, ডেঞ্জারাস কার্গো, ঢাকা আইসিডি, পানগাঁও আইসিটি, কারেন্সি পেপার, সরকারি আমদানি পণ্যের কনটেইনার ছাড়া বাকি কনটেইনার অফডকে পাঠানো হচ্ছে। পাঠানোর সময় স্ক্যানিং করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বন্দরের কনটেইনার জট প্রাথমিকভাবে ১৮ হাজার কনটেইনার অফডকে সরিয়ে সামাল দেওয়া গেলেও আমদানিকারকদের ডেলিভারি নেওয়ার বিকল্প নেই। নয়তো কয়েক সপ্তাহ পর অফডকগুলোতেও বন্দরের মতো জট লেগে অচলাবস্থার সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে ২০ ফুট দীর্ঘ হিসেবে ৪৯ হাজার ১৮টি কনটেইনার ধারণক্ষমতার বিপরীতে ছিলো ৪৮ হাজার ৬৪৬টি। ২৪ ঘণ্টায় বন্দর থেকে ডেলিভারি হয়েছে ২ হাজার ৭৯৩টি। এ সময় জাহাজ থেকে আমদানি পণ্য ভর্তি কনটেইনার নামানো হয়েছে ২ হাজার ৮৭০টি। রফতানি পণ্য ভর্তি ও খালি কনটেইনার জাহাজে তোলা হয়েছে ২ হাজার ৪৭৮টি। অফডকে লোড কনটেইনার পাঠানো হয়েছে ১ হাজার ৩৪৭টি।

জেটিতে কনটেইনার জাহাজ ছিলো ১০টি। বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ ছিলো ৩২টি কনটেইনার জাহাজ। বজির্নোঙরে লাইটারিং হয়েছে সাধারণ পণ্যের ১৪টি, খাদ্য শস্যের ৫টি, সিমেন্ট ক্লিংকারের ২২টি, চিনির ১টি ও তেলের ১টি জাহাজে। বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, কনটেইনার জট নিরসন ও জাহাজের গড় অবস্থান সময় কমিয়ে আনতে বন্দর করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশে সাধারণ ছুটির সময় ২৪ ঘণ্টা অপারেশনাল কার্যক্রম সচল রেখেছে। আমদানি রফতানি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি দেশে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দর ব্যবহারকারীদের সহযোগিতায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।