বিক্ষোভ করেও মেলেনি রাজশাহী চিনি কল শ্রমিক কর্মচারীদের চার মাসের বকেয়া বেতন

সৈয়দ মাসুদ, রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী চিনি কলে কাজ করেও বেতন হয়নি চার মাস। তাই বেতন ভাতার দাবীতে করোনা ঝুকি নিয়েই বিক্ষোভ করেছে রাজশাহী সুগার মিল শ্রমিক কর্মচারীরা। এদিকে কৃষকের আখের মূল্য বাবদ প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা আটকে দিয়েছে মিল কতৃপক্ষ। এতে করে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষ গুলো পড়েছে চরম বিপাকে, আর কাটাতে হচ্ছে মানবেতর জীবন।অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে চাষাাবাদ । বার বার তাগাদা দিয়েও কোন লাভ হচ্ছেনা বলে জানালেন আন্দোলনরত শ্রমিক কর্মচারীরা।

এছাড়াও শ্রমিক কর্মচারীদের নিকট মিলটির দেনা, মজুরী কমিশনের ২০১৫ সালের বেতন স্কেলের প্রায় ১ কোটি টাকাসহ ইনসেন্টিভ, ওভার টাইম,ও রিটায়ারমেন্টের প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা। দেশের মোট ১৫ টি চিনি কলের মধ্যে রাজশাহী চিনি কল একটি। গেল মৌসুমে ৯০ দিনে প্রায় ১লক্ষ ২৯ হাজার ২০০ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে মিলটি। বর্তমানে ৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চিনি এর পুরোটাই এখন পড়ে আছে মিলের গুদাম ঘরে। এদিকে চার মাস যাবৎ বেতন ভাতা না পেয়ে চরম বিপাকে পরেছে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক কর্মচারী। রাজশাহী চিনি কল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক মোঃ মুনতাজ আলী বলেন দীর্ঘ চার মাসবেতন না পাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের। তাই করোনা ঝুঁকি থাকা সত্বেও আন্দলনে নেমেছে শ্রমিক কর্মচারীরা। একিকথা বললেন শ্রকি কর্মচারীদের আরেক নেতা রাজশাহী চিনি কল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ মজিবর রহমান।

তিনি বলেন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে দোকান দাররাও আর আমাদের বাকী দিতে চাচ্ছেনা। তাই কনো রকমে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে আমাদের। এদিকে আরো খারাপ অবস্থা কৃষকদের। মিলে আখ সরবরাহ করেও টাকা মেলেনি এখনও। প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা বকেয়া রেখেই গেল ফেব্রুয়ারী মাসের ২০ তারিখে উৎপাদন বন্ধ করে দেয় মিল কতৃপক্ষ। এতে করে সার বীজ না কিনতে পারায় আগামী মৌসুমে আখ রোপন নিয়ে সঙ্কায় রযেছে কৃষকরা। রাজশাহী হরিয়ান এলাকার আখ চাষী দেলোয়ার হোসেন বলেন গেল মৌসুমে প্রায় পাঁচ বিঘা জমির আখ মিলে সরবরাহ করেও এখন পর্যন্ত কোন টাকা পাইনি। আগামীতে কিভাবে ফসল আবাদ করবো। আশা আর দুঃশ্চিন্তায় কাটছে দিনের পর দিন এখন পর্য়ন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি কতৃপক্ষ। বাংলাদেশ চিনি কল আখ চাষী ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ আলহাজ¦ ইয়াসিন আলী বলেন নানান দেন দরবার করেও বকেয়া আদায় করতে পারেনি তারা।

সময় মত কৃষকের পাওনা পরিষোধ না করলে আসছে মৌসুমে আখ চাষে বিরুপ প্রভাব পরতে পারে বলে মনে করেন তিনি। এবিষয়ে চিনি কলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস ছালাম জানান, এবার করোনা ভাইরানের কারনে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় চিনি বিক্রি হয়নি। তাই শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন দিতে সমস্যা হচ্ছে তবে কৃষকের পাওনা টাকা আগামী সপ্তাহ নাগাদ দেয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।