বায়েজিদ-খুলশীতে পাহাড় কাটার দায়ে অর্ধকোটি টাকা জরিমানা

মোঃ রাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ নগরের বায়েজিদ থানাধীন আরেফিন নগর জালালাবাদ ও খুলশী থানাধীন ফয়েজ লেক এলাকায় পাহাড় কাটার পৃথক ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে মোট ৫০ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদফতর।

মঙ্গলবার (৯ জুন) শুনানি শেষে পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল্লাহ নুরী এ জরিমানার আদেশ দেন।

জরিমানার অর্থ আগামি সাত দিনের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই এলাকায় আর পাহাড় না কাটতে নির্দেশনাও দিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর।

জরিমানার আদেশ পাওয়া দুই ব্যক্তি হলেন- হাফেজ মো. আবু তৈয়ব ও আলী শাকের মুন্না।

এদের মধ্যে হাফেজ আবু তৈয়বকে বায়েজিদ থানাধীন জালালাবাদে পাহাড় কেটে বসতঘর তৈরি করার অপরাধে ৩২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও খুলশী থানাধীন ফয়েজ লেক এলাকায় পাহাড় কাটার দায়ে আলী শাকের মুন্নাকে ১৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল্লাহ নুরী বলেন, বায়েজিদ থানাধীন আরেফিন নগর জালালাবাদ ও খুলশী থানাধীন ফয়েজ লেক এলাকায় পাহাড় কাটার পৃথক ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে মোট ৫০ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ আগামি সাত দিনের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই এলাকায় আর পাহাড় না কাটতে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

গত ১ জুন বায়েজিদের আরেফিন নগর জালালাবাদ এলাকায় পাহাড় কেটে বসতঘর তৈরির বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ৭ জুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাহাড় কাটার বিষয়ে প্রমাণ পায় পরিবেশ অধিদফতরের টিম।

অভিযোগ রয়েছে, করোনা ভাইরাসের কারনে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির সময়ে গোপনে হাফেজ মো. আবু তৈয়ব দীর্ঘদিন ধরে কেটে আসছিলেন এসব পাহাড়। মধ্যরাতে ও ভোরে এসব পাহাড় কাটা হয়।

বায়েজিদের আরেফিন নগর ও সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের মাঝামাঝি এসব পাহাড়ের অবস্থান। অভিযোগ রয়েছে, বায়েজিদ থানা পুলিশের কয়েকজন সদস্য এসব পাহাড় দখল ও কাটার কাজে সহযোগিতা করে থাকেন। এ কারনে স্থানীয়রা প্রতিবাদও করে না। এসব পাহাড় কাটার ক্ষেত্রে নানা কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। পুরো পাহাড় একদিনে কাটা হয়নি। তিন-চারদিন বিরতি দিয়ে রাতের আঁধারে কাটা হয়েছে বিশাল পাহাড়।