বান্দরবানে কোয়ারেন্টেনে থাকা ব্যক্তিকে পালানোর সহযোগীতায় এক যুবকের ৩ মাস জেল

 রানা মারমা, বান্দরবান প্রতিনিধি: যেখানে ক্ষুধার্থ মানুষের হাহাকার সেখানেই স্বেচ্ছা সেবক মুহিনের ছুটে চলা। বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রামন রোধে সরকার লকডাউন ঘোষনা করলে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের মাঝে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। বান্দরবানে লকডাউনে থাকা গরীব,দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে ত্রান,খাবার ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকরন নিয়ে দাঁড়িয়ে সরকারী,বেসরকারী,ব্যক্তিগত ও সামাজিক সংগঠনের পাশা পাশি স্থানীয় যুবক মুহিনও ব্যাপক ভুমিকা পালন করেছে।

কখনো নিজের টাকায় আর কখনো বন্ধু বান্ধবের টাকায় কেনা ত্রান ও খাদ্য নিয়ে রাত দিন নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন অসহায় ক্ষুধার্থ মানুষের সেবায়। মুহিন নামের ছোট এই ছেলেটার আকান্ত পরিশ্রম নজর কাড়ে সকলের। অবশেষ সেই মুহিনকে ৩ মাসের জেল ও বিশ হাজার টাকা অর্থ দন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সন্ধ্যায় বান্দরবান সদর হাসপাতালে।

হাসপাতাল সুত্র জানায়,চট্টগ্রাম থেকে আসা আফছার উদ্দিন চৌধুরী নামে এক বিকাশ কর্মচারীকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে কোয়ারেন্টেনে রাখে স্থানীয় প্রশাসন। সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় যুবক মুহিন কোয়ারেন্টেনে থাকা ওই ব্যক্তির জন্য হাসপাতালে ইফতারী নিয়ে যায়। ইফতারের পর কোয়ারেন্টেনে থাকা আফসার উদ্দিন চৌধুরী উধাও হয়ে যায়। তাকে অনেক খোঁজা খুজির পর কোন সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি হাসপাতাল কতৃপক্ষ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে সরকারী কাজে বাঁধা প্রদান ও কোয়ারেন্টেনে থাকা ব্যক্তিকে পালিয়ে যেতে সহযোগীতা করার অপরাধে মুহিনকে ৩ মাস কারাদন্ড ও বিশ হাজার টাকা অর্থ দন্ড দেয় ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান।

এব্যপারে বান্দরবান সিভিল সার্জন ডা. অংশৈপ্রু মার্মা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,হাসপাতালে কোয়ারেন্টেনে থাকা ব্যক্তিকে মুহিন নামে স্থানীয় এক যুবক ইফতারী সরবরাহ করে ছিল। এর পর থেকে কোয়ারেন্টেনে থাকা ওই ব্যক্তিকে পাওয়া যাচ্ছিলনা। আমাদের ধারনা মহিনের সহযোগীত্য়া কোয়ারেন্টেনে থাকা ব্যক্তিটা পারিয়েছে। এব্যপারে বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ হাবিবুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,চট্টগ্রামের বাসিন্দা ও বিকাশে কর্মরত মোঃ আফসার উদ্দিন চৌধুরী নামে এক লোক বান্দরবানে আসায় তাকে হাসপাতালে কোয়ারেন্টেনে দেয়া হয়েছিল।

সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় যুবক মুহিন ওই কোয়ারেন্টেনে থাকা ব্যক্তিকে ইফতারী দিতে গিয়ে তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগীতা করে। এঘটনায় মুহিনকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৩ মাস কারাদন্ড ও বিশ হাজার টাকা অর্থ দন্ড দেয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক মুহিন বলেন বলেন তিনি ইফতারি নিয়ে গিয়ে কোয়ারেন্টেনে থাকা ব্যাক্তির সাথে কথা বলা তো দুরের কথা দেখাও করেন নি। অহেতুক এঘটনায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে তিনি দাবী করেছেন। এদিকে এঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক,সামাজিক ও স্বেচ্ছা সেবক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে স্বেচ্ছা সেবক কর্মী মুহিনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেছে।