বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় সরকারের কাছে ধান চালও বিক্রি করেনি উল্লাপাড়ার কৃষক

মোঃ আলমগীর, উল্লাপাড়া প্রতিনিধি: সরকারিভাবে ধানচাল সংগ্রহ অভিযানের এক মাস অতিবাহিত হতে চলেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এক ছটাক ধান চালও কিনতে পারেনি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা খাদ্য বিভাগ।

সরকারি দরের চেয়ে বাজার দর বেশি হওয়ায় এখন পর্যন্ত সরকারি খাদ্য গুদামে কেউ এক ছটাক ধান চালও বিক্রি করতে আসেনি। এতে এ উপজেলায় সরকারি ধান চাল সংগ্রহ অভিযান পুরোটাই ব্যার্থ হতে চলেছে। জানা যায়, উল্লাপাড়া উপজেলায় সরকারি ভাবে ৫৫৪ মেঃটন ধান ও ১৭৩৯ মেঃটন চাউল কেনার লক্ষমাত্রা ঘোষনা করা হয়।

২৬ টাকা দরে কৃষকদের নিকট থেকে ধান ও ৩৭ টাকা দরে চালকল মালিকদের নিকট থেকে চাউল কেনার সরকারি দর বেধে দেয়া হয়। গত মাসের প্রথম দিকে উপজেলায় এ কর্মসূচি ঘোষনা করা হয়েছে। কিন্তু একমাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সরকারি খাদ্য গুদামে কৃষক ও চালকল মালিকদের কেউ এক ছটাক ধান চালও বিক্রি করতে আসেনি। জানুয়ারি মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত সরকারি ধান চাল সংগ্রহের শেষ সময় বেধে দেয়া রয়েছে।

এর কারন হিসাবে কৃষক ও মিলাররা জানায়,খাদ্য বিভাগ যে ধান ক্রয় করবে সে ধানের খোলা বাজার মুল্য প্রায় ১১ শত টাকা মন। যার কেজি হিসেবে দাড়ায় ২৭ টাকা ৫০ পয়সা। এর সাথে খাদ্যগুদামে পৌছানো এবং প্যাকিং বাবদ আরো মন প্রতি ২০ টাকা করে খরচ পড়ে। এতে এক কেজি ধানের বাজার দাম পড়ে ২৮ টাকা। অথচ খাদ্য বিভাগ সেই ধানের দাম দিবে ২৬ টাকা।

সেখানে বাজার দরের চেয়ে কেজি প্রতি ২ টাকা হারে কম পাবে কৃষকরা। একই ভাবে সরকারি খাদ্য গুদামে এক কেজি চাউল কেনা হচ্ছে ৩৭ টাকা দরে। অথচ বাজারে সেই চাউলের দাম ৪২ থেকে ৪৩ টাকা। সরকারি খাদ্য গুদামে চাউল সরবরাহ করলে চালকল মালিকদের কেজি প্রতি ৬/৭ টাকা লোকশান গুনতে হবে।

যার কারনে উপজেলার চাউল সরবরাহের তালিকায় থাকা ৫৭ টি চাল কলের মধ্যে একটি চাল কলও সরবারি খাদ্য গুদামে চাউল সরবরাহ করেনি। এখন পর্যন্ত উপজেলা খাদ্য গুদামে এক ছটাক ধান চালও বিক্রি করেনি কৃষক ও চালকল মালিকরা।

খাদ্যগুদামে ধান চাল না পাওয়ার কথা স্বীকার করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ নিয়ামুল হক জানান,বাজার দরের চেয়ে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান চালের দাম কম হওয়ায় কেউ সরবরাহ করেনি। তবে ৮/১০ জন চালকল মালিক চাউল সরবরাহ করবে বলে তাকে আশস্ত্র করেছেন। তবে আজ মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) কৃষকের কাছ থেকে ৬ টন ধান ও মিলারদের কাছ থেকে ১৮ টন চাউল সংগ্রহ করা হয়েছে বলে তিনি জানান