বাগেরহাটে প্রতিবন্ধী ছেলেকে মারপিট সমাজে বিচার চেয়ে ১৪ দিনেও বিচার পায়নি মা

মাহফুজুর রহমান বাপ্পী, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ বাগেরহাটের শরণখোলায় রিয়াদুল ইসলাম রাহুল (১৭) নামের এক শারিরীক প্রতিবন্ধীকে বেধড়ক মারপিটের ঘটনার ১৩ দিনেও কোনো বিচার পায়নি প্রতিবন্ধীর মা। সমাজের প্রভাবশালী থেকে শুরু করে জন-প্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো প্রকার সঠিক বিচার পায়নি মারপিটের শিকার ভুক্তভোগী ওই পরিবার। গত ২২মে উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের রসুলপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ মারপিটের ঘটনা ঘটে।

মারপিটের শিকার প্রতিবন্ধী কিশোরের মা রেকসোনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার একমাত্র ছেলে রিয়াদুল একজন শারিরীক প্রতিবন্ধী । আমরা মা-ছেলে দুজনে সবসময় ঘরেই থাকি । আমাদের ঘরের সামনে প্রতিবেশীদের জমির একটি গাছে পাখিতে বাসা বাধে।

গত ২২মে শুক্রবার বিকালে রোজা রাখা অবস্থায় আমার ছেলে রিয়াদুল সেই গাছে উঠে পাখির বাসা থেকে বাচ্চা নামানোর চেষ্টা করে । তখন আমি নিষেধ করি। এসময় প্রতিবেশী ফারুক ফকিরের ছেলে জুয়েল ফকির রিয়াদুলকে পাখি নামাতে দেখে নিষেধ করে বলে পাখি নামালে তোকে কিন্তু মারবো। এরপর রিয়াদুল আবারো পাখি নামাতে গেলে জুয়েল এসে আমার ছেলেকে মারপিট শুরু করে।

এরপর আমি বাঁধা দিলে আমাকেও লাথি ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায় জুয়েলের সহযোগী একই এলাকার দেলোয়ার ফকিরের ছেলে বেল্লাল ফকির (২৯), সোহরাফ খাঁনের ছেলে রহিম খান (২০) ও ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে সিয়াম (৩০) এসে আমার ছেলেকে লাথি ও চড় মারে । এসময় আমার ছেলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ও আমার পেটে মারাত্মক আঘাত লাগে । কিছুক্ষ পর রিয়াদুলের শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে একইদিন বিকালে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি । পরদিন অসুস্থতা বোদ করলে আমিও হাসপাতালে ভর্তি হই । তিনদিন হাসপাতালে থাকার পর চিকিৎসা নিয়ে ২৫ মে বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বারবার অভিযোগ দিয়ে আজ ১৪ দিন হয়েগেলো এখনো এর কোনো বিচার পাইনি ।

এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য আঃ রহমান হাওলাদার, ইউপি সদস্য লাইলী কাঞ্চন, আওয়ামীলীগ নেতা আফজাল চাপরাশী, উপজেলা স্বেচ্ছা- সেবক লীগের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান বিপ্লব জানান, ২ জুন রসূলপুর বাজারে শালিস মিমাংসার জন্য বৈঠকে বসলে দুই পক্ষের অভিযোগ শুনে সমাধান দিতে চাইলে তা না মেনে শালিসদারদের অপমান করে চলে যায় রোকসানা । অপরদিকে রেকসোনা বেগম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, শালিশ বৈঠকের নামে শালিসদাররা উপস্থিত শতাধিক লোকের সামনে অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে আমাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করলে আমি শালিশ থেকে চলে আসি। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জুয়েল ফকির ও বেল্লাল ফকিরের বক্তব্য না পাওয়া গেলেও রহিম খাঁন ও সিয়াম তালুকদার বলেন, তারা কোন প্রকার মারামারি করেনি । উক্ত ঘটনায় গত ২জুন প্রতিবন্ধী রিয়াদুলের মা রেকসোনা বেগম বাদী হয়ে ৪জনকে আসামী করে শরনখোলা থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন। এ ব্যাপারে শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস.কে আব্দুল্লাহ আল সাঈদ বলেন, বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।