বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা পরিষদ উপ-নির্বাচন, প্রধান দুই দলের মনোনয়ন চুড়ান্ত

মাহফুজুর রহমান বাপ্পী, বাগেরহাট প্রতিনিধি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে
উপ নির্বাচনে প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র দলীয় মনোনয়ন চুড়ান্ত
করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে দল দুইটির পক্ষ থেকে প্রার্থীদের চুড়ান্ত মনোনয়ন
সম্পন্ন করা হয়। তবে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন এখনো চুড়ান্ত হয়নি।

দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সদ্য প্রয়াত উপজেলা
চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আকনের জেষ্ঠ পুত্র মোঃ রায়হান উদ্দিন শান্ত, বিএনপি’র
মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি খাঁন মতিয়ার রহমান। এছাড়া জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান নিজ দলের মনোনয়ন পেলেও প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে তার ছোট ভাই এ্যাডঃ মোঃ শহিদুল ইসলামকে প্রার্থী করবেন বলে তিনি জানান।

২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর শরণখোলা উপজেলা পরিষদের চেয়ার‍্যান কামাল উদ্দিন
আকনের মৃত্যুর ৮ মাস পরে গত ১৫ সেপ্টেম্বর উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করে
নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার মনোনয়ন জমা দেয়ার
শেষ তারিখ এবং আগামী ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ভোট গ্রহন।

নির্বাচনী তৎপড়তায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিল ৮ জন,
বিএনপি’র তিনজন এবং জাতীয় পার্টির একজন। তাই দলীয় মনোনয়ন পেতে দুই-
তিন মাস আগে থেকেই প্রার্থীদের দৌড়-ঝাপ ও কেন্দ্রে লবিং শুরু হয়। কে পাবেন
মনোনয়ন তা নিয়ে নেতা কর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে।
সোমবার সন্ধ্যায় এসব জল্পনা -কল্পনার অবসান ঘটে।

এব্যাপারে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি
মুক্তিযোদ্ধা এম সাইফুল ইসলাম খোকন বলেন, সবসময় দলের সৃঙ্খলা মেনে ত্যাগ
স্বীকার করেছি। দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দল এবং দেশের জন্য
কাজ করে যাব। উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, দল কাজের
মূল্যায়ন না করে পারিবারিক সহানুভুতি দেখিয়েছে। এর পরও দলের সিদ্ধান্তের প্রতি
আনুগত্য প্রকাশ করছি। আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হক হায়দার বলেন, দলের
মনোনয়ন বোর্ড যাকে যোগ্য মনে করছে তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমি ওই
সিদ্ধান্ত সানন্দের সাথে মেনে নিয়েছি। এখন নৌকা বিজয় করতে একসাথে
কাজ করবো।

বিএনপি’র মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা দলের উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক
মোল্লা ইসাহাক আলী বলেন, দলের সিদ্ধান্তের সাথে একমত। দল যাকে মনোনয়ন
দিয়েছে তার পক্ষে কাজ করবো। সাবেক উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার
হোসেন পঞ্চায়েত বলেন, দলের সৃঙ্খলা সব সময় মেনে চলেছি। এখন দল যে সিদ্ধান্ত
নিয়েছে তা মেনে নিয়েই প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবো। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোঃ রায়হান উদ্দিন শান্ত বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দল যে বিশ্বাস ও আস্থা নিয়ে আমাকে মনোনয়ন
দিয়েছে তা রক্ষা করার চেষ্টা করবো। এছাড়া নৌকার ভোট বৃদ্ধি করতে দলের সকল
নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে উন্নয়নমূলক কাজে নিজেকে বিলিয়ে দেবো। বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খান মতিয়ার রহমান
বলেন, যদি সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় তাহলে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত
হবো।