বাগেরহাটের চিতলমারীতে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ভাতা দেয়ার নামে অর্থ নেয়ার অভিযোগ

মাহফুজুর রহমান বাপ্পী, বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার হিজলা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য জগদীশ চন্দ্র বসুর বিরুদ্ধে সামজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিডি কার্ড, মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ অন্যান্য সরকারী সুবিধা পাইয়ে দেয়ার নামে অর্থ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এঘটনার প্রতিকার পেতে ভুত্তভোগীরা বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী সামজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় কোন ভাতা গ্রহনে ভাতা গ্রহিতার নিকট থেকে কোন প্রকার অর্থ নেয়ার কথা নয়। তবে স্থানীয় সরকার বিভাগ বলছে, তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ এবং ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানান গেছে,

চিতলমারী উপজেলার হিজলা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডর বেশির ভাগ মানুষ সল্প শিক্ষিত ও দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে। জগদীশ চন্দ্র বসু দীর্ঘ সময় ধরে এই ওয়র্ডের ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, জগদীশ চন্দ্র বসু বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধি ভাতা, ভিজিডি কার্ড, মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ অন্যান্য সরকারী সুবিধা পাইয়ে দেয়ার নামে জনপ্রতি ৩ থেকে ৭ হাজার টাকা গ্রহন করেছেন।

এদের মধ্যে কেউ কেউ ওইসব ভাতা পেয়েছেন, আবার কেউ এখনও এসব ভাতা পাননি। ভাতা গ্রহিতা বোয়ালিয়া গ্রামের ভবানী বিশ্বাসের স্ত্রী লিপি বিশ্বাস জানান, ‘আমরা একেবারেই গরিব মানুষ, কোন রকমে দিন চলে। আমার স্বামীকে বয়স্ক ভাতা দেয়ার জন্য মেম্বর জগদীশ চন্দ্র বসু ৬ হাজার টাকা নিয়েছেন। একই গ্রামের বাসন্তি মন্ডল জানান, তার কাছ থেকে বয়স্ক ভাতা করার জন্য মেম্বর ৪ হাজার টাকা নিয়েছেন। তার স্বামীর কাছ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা নিয়েছেন।

এখনও ভাতার বই দেননি। বই নেয়ার সময় আরো ৫শ টাকা দেয়ার কথা রয়েছে। সুখময় গাইন জানান, তার দুটি ছেলেই প্রতিবন্ধী। বড় ছেলের জন্য মেম্বরকে ( ইউপি সদস্য) বিভিন্ন সময়ে টাকা টাকা দেয়ার পরও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেননি। অবশেষে ছোট ছেলের জন্য ৫ হাজার টাকা দিয়ে একটা প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করেছি। তিনি আরো, জানান, জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদনের খবর শুনে মেম্বর তাকে হুমকি দিয়ে বলেছে, বেশি বাড়াবাড়ি করলে ভাতা বন্ধ করে দেয়া হবে। বাবলু হাওলাদার জানান,

সরকারী ঘর পাইয়ে দেযার কথা বলে মেম্বর ১০ হাজার টাকা দাবী করে। তিনি ৮ হাজার টাকা দিতে রাজি হয়ে ছিলেন। তাতেও তাকে ঘর দেয়া হয়নি। পরে ইউপি সদস্য বলেছেন, অন্য একজন ১০ হাজার টাকা দেয়ায় তাকে ঘর দেয়া হয়েছে। ইউপি সদস্য জগদীশ চন্দ্র বসু তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,‘ আমি দীর্ঘদিন এই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছি।

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষরা আমার বিরুদ্ধে নানা রকম ষড়যন্ত্র করছে। বাগেরহাটের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচলাক দেব প্রসাদ পাল জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।