বাগাতিপাড়ায় এমপি’র গাড়ি চালক-পুলিশ, এলাকায় উত্তেজনা অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

সাজেদুর রহমান, নাটোর প্রতিনিধিঃ নাটোরের বাগাতিপাড়ায় পুলিশের এক এসআইকে সাইড না দেওয়ায় এমপি’র গাড়ি চালকের হাতে হ্যান্ডকাপ পরানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশি মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এমপির দুই গাড়ি চালককে মারপিট এবং এসআইকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়ার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে মালঞ্চি রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুলের দুই গাড়ী চালক আব্দুল মোমিন ও ইয়াকুব আলী মোটরসাইকেল নিয়ে এমপি’র বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এসময় উপজেলার মালঞ্চি রেলগেট পার হওয়ার সময় পিছন থেকে সাইড চায় বাগাতিপাড়া থানার এসআই রাকিব। কিন্তু মোটরসাইকেলটি রেলগেটের উঁচু থেকে নিচে নামার কারনে সাইড দিতে দেরি হয়। এ ঘটনায় এমপি বকুলের গাড়ী চালক আব্দুল মোমিনকে থামিয়ে প্রকাশ্যে চড়-থাপ্পড় মারে এসআই রাকিব। এসময় পিছনে থাকা আরেক গাড়ী চালক ইয়াকুব আলী এসআই রাকিবকে ধাক্কা মারে। পরে চালক ইয়াকুবকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে টানা হেঁচড়া করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেস্টা করে পুলিশ সদস্যরা। এসময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম গকুল অফিসে যাওয়ার সময় বিষয়টি তার নজরে এলে পুলিশের কাছ থেকে তাদের ছাড়িয়ে নেয়। এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলে মালঞ্চি রেলগেট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়।

এ ব্যাপারে বাগাতিপাড়া থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, এসআই রাকিব দ্রুত এক অভিযানে যাওয়ার সময় ওই দুই গাড়ি চালক তার সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তারা রাকিবকে সাইড দিচ্ছিলনা। পরে তাদের থামিয়ে এসআই রাকিব সাইড না দেওয়া বিষয়ে কথা বলার সময় উভয়পক্ষের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে গাড়ি চালকদের একজন এসআই রাকিবকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। তবে গাড়ি চালকদের কোন মারপিট করা হয়নি বলে তিনি জানান।

সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, মালঞ্চি রেলগেট থেকে নামার সময় এসআই রাকিবকে আমার ড্রাইভার সাইড না দেওয়ার কারনে তাদেরকে অন্যায় ভাবে মারপিট করেছে। বিষয়টি আমি পুলিশ সুপার এবং ওসিকে অবহিত করেছি। তাছাড়া বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে জানানো হবে।

এবিষয়ে পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে বিষয়টি শুনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।