বাগমারায় পুকুর পাহারাদার খুন গ্রেপ্তার-৪ খুনের মোটিভ উদ্ধার

নুর কুতুবুল আলম, বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের সাজুড়িয়া গ্রামের যশের বিলের একটি ছোট ঘর থেকে আবদুস সালাম প্রামানিক (৪৫) নামের এক পুকুর পাহারাদারের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার (১০মে) সকালে ওই ঘরের মেঝে থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। নিহত আবদুস সালাম প্রামানিক উপজেলার দক্ষিণ সাজুড়িয়া গ্রামের মৃত আবদুস সাধু প্রামানিকের ছেলে।

এঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন চারজনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন -দক্ষিণ সাজুড়িয়া গ্রামের পুকুর মালিক মুনির উদ্দিন সরদারের ছেলে শুভ সরদার (২৮), মামুনুর রশিদ বাবলু শাহ’র ভাই রুস্তম আলী শাহ (৪৫),পুকুরের শ্রমিক সেলিম (৪২) ও গোয়ালকান্দি গ্রামের আবদুস সামাদের মেয়ে শিরিনা বেগম (৩৫)। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা হয়েছ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১০ টার দিকে আবদুস সালাম প্রতি দিনের মতো নিজ বাড়ি থেকে রাতের খাবার খেয়ে যশোর বিলের মধ্যে আবদুস সোবহান, মুনির উদ্দিন সরদার ও মামুনুর রশিদ বাবলু শাহ’র পুকুরে পাহারা দেয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। রাতের কোন এক সময়ে দুর্বৃত্তরা তাকে খুন করে পুকুর পাড়ের একটি ঘরের মধ্যে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। নিহতের মাথায় রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

রোববার সকালে স্থানীয়রা ওই ঘরে সালামের মরদেহ দেখতে পায়। এরপর খবর পেয়ে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। বেলা ১২টার দিকে রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল জনাব সুমন দেবের নির্দেশে সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এস.আই) মনিরুল ইসলাস লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।

এলাকাবাসী জানায়, দক্ষিণ সাজুড়িয়া গ্রামের আবদুস সালাম যশোর বিলে কয়েকটি পুকুরে প্রায় তিন বছর যাবত পাহারাদারের কাজ করে আসছিলেন। শনিবার দিবাগত রাতে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে পুকুর পাহারা দেবার উদ্দ্যেশে আসার পর কে বা কারা তাকে খুন করে পুকুর পাড়ের একটি ঘরের মধ্যে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায়। এদিকে এলাকাবাসীর ধারণা গোয়ালকান্দি গ্রামের আবদুস সামাদের মেয়ে আটককৃত শিরিনার সঙ্গে সালামের অবৈধ সর্ম্পক ছিলো।

আজ সোমবরা (১১মে) শিরিনকে রাজশাহী আমলী আদালত -২ এর (বাগমারা অঞ্চল) জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো.উজ্জল মাহামুদের নিকট হাজির করা হলে শিরিন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দেন বলে সূত্র জানায়।

এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনাস্থল থেকে অপর তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। খুনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে রহস্য উন্মোচন হওয়ায় স্থানীয়দের স্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা গেছে।