বাগমারায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের শিশুসহ আহত ৫

নুর কুতুবুল আলম,বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাগমারায় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে শিশুসহ পাঁচ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটে আজ শনিবার সকাল এগারো ঘটিকার দিকে উপজেলার গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের কোর্ট গ্রামে।

ঘটনা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জনৈক রহিদুল ইসলামের নিকট থেকে কোট গ্রামের মোজাম্মেল হক ১.৭৫ শতাংশ এবং জিয়াপাড়া গ্রামের বাবর আলী ২.৩৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। মোজাম্মেল হক ১.৭৫ শতাংশ ক্রয় করলেও ভোগ দখলে ছিলেন ৬ শতাংশে।

তাতে তিনি বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করেন। বাবর আলী অতি সম্প্রতি ক্রয়কৃত জমিজমা গ্রাম্য মাতবর ও ভূমি জরিপকারীর সাহায্যে বের করে ভোগ দখলে গেলে দেখতে পান, কিছু ( ছোট-ছোট ) গাছপালা তাঁর অংশে রয়েছে। এতে বাবর আলী এবং মোজাম্মেল হকের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

এক পর্যায়ে মোজাম্মেল হকের ছেলে ইসমাইল (১৭) দা দিয়ে ৪/৫ টি গাছ কেটে ফেলেন। বাবর আলীর শ্যালক জাহাঙ্গীর আলম তাতে নিষেধ ও বাধা দিলে, তাঁর উপর দেশীয় অস্ত্র দা, গাছের গুড়ি দিয়ে মাথায় ও কপালে আক্রমণ চালান বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়।

ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে বাবর আলীর পক্ষে জিয়াপাড়া গ্রামের মৃত আতাউর রহমানের শিশু পুত্র নাঈম ইসলাম (১০), বাবর আলীর শ্বশুর কোর্ট গ্রামের মোহসিন আলী (৫০), জিয়াপাড়া গ্রামের সোনাউল্লাহর ছেলে বাবর আলী (৩৬), কোর্টগ্রামের মোহসিন আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (১৯) আহত হন।

অপর তিনজনসহ জাহাঙ্গীর আলমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাগমারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেয়া হয়েছে বলে সূত্র জানায়। মোজাম্মেল হক ও আহত হন বলে তাঁর লোকজন সংবাদকর্মীদের জানিয়েছেন। উভয় পক্ষ একই বংশের এবং পরস্পর আত্মীয় ।

সরাসরি কোর্ট গ্রাম মোজাম্মেলের বাড়ি গিয়ে তালা বদ্ধ এবং কাউকে পাওয়া যায়নি, অপর দিকে জাহাঙ্গীরের মা-বাবাকে বিলাপ করতে দেখা গেছে। মোজাম্মেল হকের মুঠো ফোনে কল দিলে ছেলে ইসমাইল রিসিভ করেন। তাঁর বাবার সাথে কথা বলতে চাইলে বলেন, বাবার খুব খারাপ অবস্থা, শ্বাস নিতে পারছেন না, একটি দাঁত ভেঙ্গে গেছে বলে দাবী করেন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। রা.মে.কে কত নং ওয়ার্ডে ভর্তি তা তিনি জানাতে পারেনি। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার জন্য এই প্রতিবেদকের নিকট কাকুতি মিনতি করেন ইসমাইল (অডিও ক্লিপ আছে)। সরজমিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ৪/৫ টি কাটা গাছ এবং জাহাঙ্গীর আলমের শরীর থেকে নির্গত রক্তের দাগ দেখান জাহাঙ্গীরের স্বজনরা।

গ্রাম্য মাতবর সিদ্দিকুর রহমান, সাকিম আলী বলেন, জমি জরিপের কাজ শেষ বিষয়টি নিস্পত্তি পথে, হঠাৎ গাছ কর্তন ও আক্রমণের ফলে বিষয়টি জটিল হয়ে গেল। জিয়াপাড়া গ্রামের সোনাউল্লাহর ছেলে বাবর আলী জানান, বাগমারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলেছ।

হাট গাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এ.এস.আই ( উপ-পরিদর্শক ) আবু রায়হান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমানের নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একজন হাসপাতালে ভর্তি আছে, অভিযোগ দিলে অভিযোগ নিবো।