বাগমারায় চলছে দিনে রাতে অবৈধ পুকুর খনন

 নুর কুতুবুল আলম, বাগমারা ( রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারায় চলছে দিনে রাতে অবৈধ পুকুর খনন। কোন ভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না ফসলী জমিতে পুকুর খনন। রমজানে দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও করোনা ভাইরাস নিয়ে প্রশাসন যখন ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়টাকে টার্গেট করে পুকুর খননের করে চলেছেন স্থানীয় প্রভাব- প্রতিপত্তিশালী মহল।

উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের কুতুবপুর মৌজায় কামনগর গ্রামের বাসীন্দা জনৈক নজরুল ইসলাম তাঁর ৫৭ শতাংশ পুকুর সংস্কারের আবেদন করেন উপজেলা প্রশাসনের নিকট। ভেকু মেশিনে মাটি কাটার তদারকি করছেন বাইগাছা গ্রামের মৃত আক্কাস আলীর ছেলে মতিউর রহমান। তিনি পাশের সালমা ইট-ভাটার স্বত্তাধিকারী বলে দাবী করেন। মতিউর তাঁর ইটভাটায় মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। মতিউরের নিকট বৈধ কোন কাগজপত্র আছে কী না জানতে চাইলে, তিনি এক যুবককে ভাটা থেকে কাগজপত্র নিয়ে আনতে পাঠান। কাগজে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদর স্বাক্ষর সম্বলিত অনুমতিপত্র দেখান। সংবাদকর্মীরা ওই কাগজের ফুটেজ-ছবি নিতে চাইলে আপত্তি জানান, মতিউর রহমান ও তাঁর লোকজন।

আজ সোমবার সরজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে নতুন পুকুরের মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের একাধিক পুল, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দেখা গেছে। সাধারণত পূর্ব উল্লেখিত পুকুরের মধ্যে বৈদ্যুতিক পুল থাকার কথা নয়। ইট ভাটা মালিক মতিউর রহমকনের নিকট ঝুঁকিপূর্ণ পুল সমন্ধে সরাসরি জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলের গোড়ায় মাটি দিয়ে ভরাট করে দেয়া হবে। অপর দিকে উপজেলার গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নে রাতের অন্ধকারে একাধিক পুকুর খনন চলছে। দিনের বেলা পুকুর খনন বন্ধ থাকলেও রাতের অন্ধকারে পিপীলিকার সারির মতো পুকুরে প্রবেশ করে এস্কেভেটর বা খননযন্ত্র।

বাগমারা উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ভ্রাম্যমাণ আদালতে সামান্য জেল, জরিমানা, মেশিন জব্দ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসলেও থেমে থাকেনা খননকার্য। পরবর্তীতে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে পুকুর খননকারীরা। স্থানীয়দের ভাষ্য প্রশাসন যদি কঠোর হতো তাহলে কেউ অবৈধ পুকুর খননের শাহস দেখাতো না। একটি সূত্র জানায়, বুরো মৌসুম শেষে বাগমারার কয়েকটি বিলে প্রভাবশালীরা ( ধানি জমিতে) কৌশলে পুকুরের শুধু পাড় নির্মাণ করবেন। প্রয়োজনে ওই জমিতে পানি জমিয়ে পতিত করে ফেলে রাখবেন। পরবর্তীতে প্রশাসনকে বুঝাবেন এটা পুকুর। সময় সুযোগে গভীর করা হবে।

স্থানীয় বাসীন্দারা আরও জানান, ভবিষ্যতে ১৯৮৮ -১৯৯৫ সনের ন্যায় আকষ্মিক বন্যা হলে বাগমারা উপজেলার অধিকাংশ জনবসতিপূর্ণ এলাকা ৪/৫ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাবে। কেননা অধিকাংশ বিল, খাড়ি,দাঁড়ার মুখে কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে অপরিকল্পিত মৎস্য চাষ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ঘন বর্ষণ ও বন্যার সৃষ্টি হলে পানি নামতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ল ইয়্যাস ফর ল’ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন উজ্জলের রিট পিটিশনের প্রেক্ষিত মহামান্য হাইকোর্ট বাগমরায় ফসলী জমিতে পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য নির্দশনা জারী করেন। রিট নং ৪৩৫৩/২০১৭, তারিখ- ০৩/০৪/২০১৭ খ্রি:। বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মদের সরকারি মুঠোফোনে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, শর্ত ভঙ্গ করলে অবশ্যই তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।