বাগমারায় এক সাবেক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে চাকরী দেয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

মোঃ নুর কুতুবুল আলম, বাগমারা প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় এক সাবেক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে চাকরী দেয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাকরীর প্রলোভন দাতা, প্রতারক উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের মাঝিগ্রামের বাসীন্দা ঘেতন সাঁই এর ছেলে সাবেক সেনা সদস্য কর্পোরাল জোবায়েদ হোসেন।

প্রত্যন্ত গ্রামে বাড়ি হলেও তাঁর বসতবাড়িটি যে, কোন মানুষের নজর কাড়ে। বাড়ির মূল ফটকে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ছবি সাঁটানো। যা আগন্তকদের সপ্ট কর্ণার হিসাবে কাজ করে। সেখানে জোবায়েদ হোসেন সভাপতি, বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগ বাগমারা উপজেলা শাখা লিখা রয়েছে। গণিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান রঞ্জু বরাবর লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে বিভিন্ন পদে চাকরী দেয়ার নামে সাবেক সেনাসদস্য জোবায়েদ হোসেন লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

একই আবেদনে উপজেলার ভানসী পাড়া গ্রামের আঃ রাজ্জাকের ছেলে আলতাব হোসেন, তেগাছী সেনপাড়ার ইসাহাক আলীর ছেলে মাইনুল ইসলাম, নারায়ণবাড়ী গ্রামের জেকের আলীর ছেলে জামাল উদ্দীন, বামনকয়া গ্রামের হুসাইন মৃধার ছেলে উমর ফারুককে সেনাবাহিনীতে মালিসহ বিভিন্ন পদে চাকরী পাইয়ে দিবেন বলে ২৬,০০,০০০/- (ছাব্বিশ লক্ষ) টাকা গ্রহণ করেন। এদের মধ্যে আলতাব হোসেনকে মালি পদে ভূয়া নিয়োগপত্র দিয়ে কয়েক দিন এক সেনা অফিসার ও সাবেক এক সংসদ সদস্যের বাড়িতে চাকরী করিয়ে নিয়েছেন বলে জানান আলতাব হোসেন।

এছাড়াও চাঁপাই নবাবগঞ্জ শিবগঞ্জের উপজেলার রসুনচক গ্রামের মাহবুল হকের ছেলে আমিরুল ইসলামকে সৈনিক পদে চাকরীর নামে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা, বাগমারা বাসুপাড়া ইউনিয়নের বাসুপাড়া গ্রামের জেহের আলী মাষ্টারের ভাতিজাকে সৈনিক পদে চাকরীর নামে সাত লক্ষ আশি হাজার টাকা, বাগমারা মাড়িয়া ইউনিয়নের কামারবাড়ী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সাবের আলী মন্ডলের ভাতিজা তামজিদকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ওয়ার্ড বয় পদে চাকরীর নামে সাড়ে নয় লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন।

বাগমারা গণিপুর ইউনিয়নের আক্কেলপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান হাজীর ছেলে আজাহার আলীকে বিদেশে পাঠাবেন বলে তিন লক্ষ আশি হাজার টাকা গ্রহণ করেন। বিদেশে পাঠাতে না পারায়, এক লক্ষ আশি হাজার টাকা ফেরৎ দেন। টাকা দেয়ার সময় গোপন ভিডিও থাকায় এক লক্ষ আশি হাজার টাকা ফেরৎ পান বলে আজাহারের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে রেজাউল ইসলাম জানান। আজাহারের স্ত্রী আসমানী বেওয়া আবেগ আপ্লুত কন্ঠে বলেন, মিলিটারী জোবায়েদের সাথে মোবাইলে আমার স্বামী কথা বলতে বলতে স্ট্রোক করে মারা যান।

ভুক্তভুগি আলতাব জানান, জমিজমা বন্ধক,ধার-কর্জ ও চড়া সুদে ঋণ নিয়ে চাকরীর আশায় টাকায় দিয়ে ছিলাম, আজ নিঃশ্ব হয়ে জেলেদের সঙ্গে জাল টেনে,কামলা দিয়ে সংসার চালাই। মাদ্রাসা শিক্ষক জেহের আলী বলেন, ভাতিজার চাকরীর জন্য নগদ টাকা এবং (ব্ল্যাঙ্ক) সাদা চেক দিয়েছিলাম। চাকরী না হওয়ায় টাকার জন্য চাপ দিলে উল্টো চেক ডিজ অনার মামলা দিয়ে আমাদেরকে দ্বিতীয়বার নাজেহাল করা হয়। পুলিশের তল্লাশী, মমলাা মোকদ্দমা, রোগ-শোক, দুঃশ্চিন্তায় নানা কারণে আমার স্ত্রী গত রমজান মাসে তিনটি সন্তানকে এতিম করে পরপারে চলে গেছেন।

সাবেক সেনা সদস্য জোবায়েদ হোসেনের জমি জবর-দখল, মারপিট, মিথ্যা মামলা, হুমকি ধামকির কারণে এলাকাবাসী গত ২৯ জুন মানববন্ধন করেন। যার কারণে কিছুটা চাপের মধ্যে তিনি। কৌশলগত কারণে কয়েকজন পাওনাদারকে মোবাইল ফোনে টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি দেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানিয়েছেন। যাঁরাই তাঁর বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে উল্টো চেক জালিয়াতি, অপহরণসহ নানা মিথ্যা মামলার নাটক সাজান বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

মানববন্ধনের পর থলের বিড়াল বের হতে শুরু করেছে। তাঁর সঙ্গে স্বক্রীয় সংবদ্ধ একটি চক্র সরাসরি জড়িত। তিনি ডিবি পুলিশ, র‌্যাবের হাতে ধরা পড়লেও অদৃশ্য খুঁটির জোরে ছাড়া পেয়ে যান। এ সমস্ত বিষয় নিয়ে সাবেক সেনা সদস্য জোবায়েদ হোসেনের মুঠোফোনে কল দিলে দীর্ঘ আলাপ চারিতায় সংবাদ প্রচার না করার অনুরোধ জানিয়ে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান জোবায়েদ হোসেনের কোন পদ পদবী আছে কী না এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হবে।

মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ছবি সাঁটিয়ে চাকরীর প্রলোভনে টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদ এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, যেহেতু চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে অভিযোগ হয়েছে তিনি বিষয়টি দেখবেন।